ধারাবাহিক ভূমিকম্প হয়তো আরও বড় কোনও বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা দ্রুত কয়েকদিনের মধ্যে ঘটে যেতে পারে

সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর। তার মধ্যেই বার বার কেঁপে উঠেছে উত্তরবঙ্গের মাটি। কেঁপেছে সিকিম ও অসমের কিছু এলাকাও। আর তাতেই ছড়িয়েছে আতঙ্ক। প্রশ্ন উঠেছে সোমবার রাতের ভূমিকম্পেরই কী ‘অ্যাফটার শক’ মঙ্গল সকালের জোড়া ভূমিকম্প। প্রথমে সকাল ৮টা নাগাদ আর তারপরে বেলা সাড়ে ১০টা নাগাদ। সাধারনত বড় কোনও ভূমিকম্পের পরবর্তী ৪৮ ঘন্টা জুড়ে এই অ্যাফটার শক হতে দেখা যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা প্রথম ভাগের তুলনায় কম শক্তিশালী হয়। কিন্তু এদিন উত্তরবঙ্গে অন্য আশঙ্কা ছড়িয়েছে। এত ঘন ঘন ভূমিকম্প আরও কোনও বড় বিপর্যয়ের ইঙ্গিত নয়তো? এই প্রশ্ন কিন্তু উড়িয়ে দিতে পারছেন না ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা। ভৌগলিক ভাবে শিলিগুড়ি সহ ডুয়ার্সের অবস্থান হিমালয়ের পাদদেশে। যেহেতু হিমালয় বিশ্বের সবচেয়ে নবীন ভঙ্গিল শ্রেনীর পর্বত তাই তার গঠনকার্য এখনও চলেছে। তাই খুব ধীর গতিতে হলেও উচ্চতা বেড়ে চলেছে হিমালয়ের। সেই সঙ্গে বহাল রয়েছে হিমালয় ও তার পাদদেশ এলাকায় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা। দেশের ভূ-মানচিত্রে হিমালয় ও সংলগ্ন এলাকাকে ৬ থেকে ৮ রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের আওতায় রাখা হয়েছে। এর মধ্যে কিন্তু সিকিম ও ডুয়ার্স পড়ে যায়। রয়েছে কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, সিকিম, অসম ও অরুণাচল প্রদেশও। এই সব রাজ্যে স্বাধীনতার পরে এমন অনেক বড় বড় ভূমিকম্প হয়েছে যেখানে রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা উঠেছিল ৮ বার তার আশেপাশে। এই সব এলাকায় নদীতে বাঁধ দিয়ে জলাধার তৈরি, পাহাড় কেটে সড়ক নির্মাণ, জঙ্গল কেটে বসতি বা হোটেল রিসর্ট নির্মাণ করতে বার বার বারণ করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারন তাতে ভূমিকম্পের সম্ভাবনা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনাটা অনেকটাই বেড়ে যায়। বিশেষ করে হড়পা বান ও ধ্বসের। কিন্তু দুর্ভাগ্য সেই সাবধানবানী কোনও সরকারই কানে দেয় না।

শিলিগুড়ির বুকে ঠিক এই এক কারনেই ভূমিকম্পের সম্ভাবনা ও তার দরুন ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। সিকিমে তিস্তার ওপর বাঁধ দিয়ে বহু জলাধার নির্মাণ করে জলবিদ্যুত্‍ উত্‍পাদন করা হচ্ছে। এর ফলে এক দিকে যেমন তিস্তায় জলের পরিমাণ অনেকটাই কমে গিয়েছে তেমনি সিকিমের বুকে জলের চাপে পাহাড়ের অন্দরে মাটির গভীরে ভূমিকম্পের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা কিন্তু বার বার বলছেন তিস্তাকে বাঁধ মুক্ত করার কথা, বিশেষ করে সিকিমের পার্বত্য এলাকায়। কেননা সেখানে তিস্তার বুকে বাঁধ দিয়ে যে অজস্র জলাধার নির্মাণ করা হয়েছে সেই জলাধারের জলের চাপ কিন্তু প্রত্যক্ষভাবে পাহাড়ের গায়ে পাথরে চাপ দিয়ে ভূমিকম্পের সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে বিগত এক দশকে বার বার সিকিমের সরকারকে এই বিপদ সম্পর্কে বহুবার অবহিতি করা হয়েছে। জানানো হয়েছে কেন্দ্র সরকারকেও। কিন্তু কোনও সরকারই সেই কথা শোনেনি। আর সেই না শোনার ফলই কিন্তু সিকিম সহ শিলিগুড়ির বুকে বারংবার ভূমিকম্প ঘটিয়ে দিচ্ছে। সোমবার রাতেও প্রথমবার যে ভূমিকম্প হয়েছে তার উত্‍সস্থল ছিল কিন্তু সিকিম। আর এখানেই ভয় পাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের ধারনা মঙ্গলবার সকালের ভূমিকা অ্যাফটার শক নাও হতে পারে। বরঞ্চ উত্তরকাশীর ভয়াবহ ভূমিকম্পের মতোই এই ধারাবাহিক ভূমিকম্প হয়তো আরও বড় কোনও বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা দ্রুত কয়েকদিনের মধ্যে বা কয়েক মাসের মধ্যে ঘটে যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *