নবান্ন দখলের স্বপ্নে ভাড়া নেওয়া হেস্টিংসের কার্যালয় ছাড়ছে বিজেপি, ফিরছে মুরলিধর সেন লেনে

নিউজ ডেস্ক : বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপি রাজ্য নেতৃত্ব নবান্ন দখলের স্বপ্নে বিভোর ছিল। সেই স্বপ্ন থেকেই হেস্টিংসের কার্যালয় ভাড়া নেয় বিজেপি। সেখানে ভোটের আগে নিত্যদিন আনাগোনা ছিল বিজেপির উচ্চ পর্যায়ের রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের। কিন্তু হারের পর এখন সেই কার্যালয়ের আর প্রয়োজন নেই। তাই সেটি খালি করে দিচ্ছে বিজেপি। হেস্টিংসে ওই বাড়িটির চার, পাঁচ, সাত, আট এবং নয় তলা ভাড়া নিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু এবার পাঁচ এবং নয় তলা ছাড়া সব গুলো তলা ছাড়ছে বিজেপি। এবার বিজেপির কার্যালয় আবার ফিরছে সেই মুরলিধর সেন লেনে। তবে সেখানেও জায়গার অভাব ছাড়াও অন্যান্য বেশ কিছু সমস্যা থাকায় কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ কোনো জায়গায় বাড়ি ক্রয় করতে চেষ্টা করছে বিজেপি।

 

 

বিজেপি সূত্রের খবর, লোকসভা নির্বাচনের আগে হেস্টিংস এলাকার ওই বাড়ির ন’তলা নিয়ে ভোটের কাজ করেছিল দল। তার পরবর্তী সময়ে বিধানসভা ভোটের কথা মাথায় রেখে সেখানে আরও চারটি তলা নেওয়া হয়। সেখানে বৈঠক করার বড় হলঘরের পাশাপাশি দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তী-সহ অনেক নেতার ঘর হয়। এমনকি, শুভেন্দু অধিকারী, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিতে যোগ দিয়েই সেখানে ঘর পান। দলের রাজ্য দফতর এবং হেস্টিংসের কার্যালয়—দু’জায়গাতেই তখন বিপুল ভিড় থাকত। বস্তত, রাজ্য দফতরে অনেক মানুষের বসার জায়গা নেই বলেই হেস্টিংসের বিরাট বাড়িটি নিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু ভোটের পরে ধীরে ধীরে দুই জায়গাতেই ভিড় কমে আসে। অন্য রাজ্য থেকে আসা নেতারা ফিরে যাওয়ায় তাঁদের থাকা এবং কার্যালয়ের জন্য এখন আর ঘরের প্রয়োজন নেই। বিজেপি সূত্রের খবর, ইদানীং রাজ্য সহ-সভাপতি প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অমিতাভ ছাড়া আর কেউ হেস্টিংসের কার্যালয়ে বিশেষ বসতেন না। সব মিলিয়ে হেস্টিংসের অত বড় জায়গা আর রাখার দরকার বোধ করছে না বিজেপি।

 

 

রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য অবশ্য বলেন, ‘‘ভোটে হেরে যাওয়ার জন্য হেস্টিংসের কার্যালয় ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে, এটা ঠিক নয়। ওটা আমাদের নির্বাচনী কার্যালয় ছিল। ভোটের পরে ছেড়ে দেওয়া হবে, এই চুক্তিতেই নেওয়া হয়েছিল। তবে সবটা ছাড়া হচ্ছে না। পাঁচ এবং নয় তলার কার্যালয় থাকছে। কারণ, মুরলীধর সেন লেনে আমাদের রাজ্য দফতরে জায়গার অভাব।’’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *