ইউরোপের নিজস্ব ইসলামী ইতিহাসের ওপর লেখা “Minerates in the mountains,” প্রকাশের পূর্বে অ্যামাজনের বেস্টসেলিং বই

সাইফুল্লা লস্কর : “মিনারেটস ইন দা মাউন্টেনস” ইউরোপের স্বল্প-পরিচিত দেশীয় মুসলিম জনগোষ্ঠীর মূলধারার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে আলোকপাত করে এবং একুশ শতকে ইউরোপীয়ও মুসলমান হওয়ার অর্থ কী তা বোঝাতে এই উপন্যাসের দৃশ্যপট সবার হৃদয়ে দাগ কেটেছে।

সু-প্রশংসিত ভ্রমণ লেখক তারিক হুসেন সৌদি আরবের লুকানো ভ্রমণ সম্পদ এবং ব্রিটেনের প্রাচীন ইসলামী সন্ধানের জন্য নিজের জন্য ইতিমধ্যেই একটি খ্যাতি তৈরি করেছেন, তবে তাঁর সর্বশেষ বইটি একটি অনন্য বিষয়ের অবতারণা করেছে।

তিনি আরব নিউজকে বলেছেন যে তাঁর নতুন বইটি বাল্কানজুড়ে তাঁর পারিবারিক ছুটির খুব মানবিক একটি কাহিনী বলে, তাঁর স্ত্রী এবং শিশুদের নিয়ে একটি মজাদার এবং খুব উপভোগ্য ভ্রমণ, তবে এটি একটি বই যা পাঠকদেরকে ইউরোপীয় ও মুসলিম সম্পর্কে দীর্ঘকালীন কল্পকাহিনীকে ভাবনা ও বাস্তবতার অনন্য এক বৈপরীত্যের মুখোমুখি করতে বাধ্য করে, জানতে সাহায্য করে মুসলিম এবং ইউরোপের মধ্যেকার সম্পর্ক।

“আমি ইউরোপের নিজস্ব একটি মুসলিম পরিচিতি রয়েছে এই ধারণা মূলধারার নজরে আনতে চেয়েছি,” হুসেইন বলেন।

তিনি এবং তার পরিবার সার্বিয়া, আলবেনিয়া, উত্তর ম্যাসেডোনিয়া, মন্টিনিগ্রো, বসনিয়া এবং কসোভো সফর করেছেন, স্থানীয়দের সাথে দেখা করেছেন এবং শতাব্দী পূর্ববর্তী মুসলিম জনগোষ্ঠীর মূল সম্পর্কে অনুসন্ধান করেছেন।
তবে এটি তার পূর্ববর্তী ইউরোপীয় ভ্রমণের মতো নয়, যেমন স্পেনের দক্ষিণে যা ছিল তখন আল-আন্দালুস নামে পরিচিত, দীর্ঘদিন আগে হারিয়ে যাওয়া ইসলামী সভ্যতার সম্পর্কে লেখার জন্য। এই ভ্রমণটি ছিল একেবারেই আলাদা – এটি একটি মুসলিম সংস্কৃতি অন্বেষণ করেছিল যে “আজ জীবিত ও সমৃদ্ধ, ”হুসেন বলেন।

“সাধারণ, গ্রহণযোগ্য ধারণা হল ইউরোপ পৌত্তলিক উপাদানগুলির সাথে যুক্ত জুডো-খ্রিস্টান পরিচিতির একটি ক্ষেত্র। কিন্তু আদতে এটি একটি ভ্রান্তি। ইসলামের প্রথম শতাব্দী থেকেই ইউরোপে ইসলাম অস্তিত্ব পূর্ণপমাত্রায় বিরাজমান রয়েছে। ”
তিনি বলেছেন যে বাল্কান অঞ্চলের আদি নিবাসী মুসলমানদের পূর্ব ইউরোপীয় বলে চিহ্নিত করে তাদেরকে ইউরোপীয় অধিবাসী এবং পরিচিতির মূলধারার বাইরে রাখা হয়েছে।
হুসেনের কাছে “পূর্ব ইউরোপ” “অন্যান্য ইউরোপ” এর প্রায় সমার্থক শব্দ। তিনি বলেছিলেন, এটি এই ভ্রান্ত ধারণাটির অবদান যে এই মহাদেশটির স্থানীয় এবং আদিবাসী কোনো মুসলিম জনসংখ্যা নেই। শেষ পর্যন্ত তাঁর বই সেই রূপকথাকে সরিয়ে দেয়।

“একজন ব্রিটিশ মুসলিম হিসাবে আমাকে রাজনৈতিক সুযোগবাদীদেরকে অস্পষ্টভাবে এবং মাঝে মাঝে স্পষ্টভাবে শুনতে হয়েছিল যে মুসলমানরা ইউরোপীয় প্রাকৃতিক দৃশ্যের অংশ নন এবং মুসলমান শরণার্থীদের অনুপ্রবেশ এখনও ইউরোপে চলমান। এটি একটা ভিত্তিহীন মিথ্যা কথা। সপ্তম শতাব্দী থেকে ইউরোপে মুসলমান রয়েছে, তিনি বলেন।
“মিনারেটস ইন দা মাউন্টেনস” আগামী ২১ ই জুন জনসাধারণের জন্য প্রকাশিত হবে, তবে প্রাক-বিক্রয়কালের বুকিং এ এটি ইতিমধ্যে অ্যামাজনে বেস্টসেলিং ট্রাভেল বইতে পরিণত হয়েছে।
হুসেন এই সাফল্যের জন্য শ্বেতাঙ্গ, মূলধারা, পুরুষ শাসিত এবং মধ্যবিত্ত শ্বেতাঙ্গদের বাইরে জনসাধারণের ক্ষুধার সংমিশ্রণকে কৃতিত্ব দিয়েছেন।

“আমি অস্বীকার করছি না যে এখানে একটি জুডো-খ্রিস্টান ঐতিহ্য আছে, বা সেখানে পৌত্তলিক ঐতিহ্য নেই। আমি বলছি এটিও এমন একটি ইতিহাস যা সামনে এনে বোঝা দরকার, “তিনি বলেছিলেন। “বইটির সাফল্য দেখায় যে লোকেরা তাতে সাড়া দিচ্ছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *