
কথায় আছে নীরব থাকা মানে প্রশ্রয়েরই সমান। প্রতিবারের মতো এবারও দেখা গেল তৃণমূল কংগ্রেসের তিন প্রথম সারির সাংসদ ওয়াকফ বিলের মতো এক গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক অধিবেশনে অনুপস্থিত থেকেছেন। এই তিন সাংসদ হলেন- ঘাটাল থেকে নির্বাচিত সাংসদ তথা অভিনেতা দেব, বীরভূম থেকে নির্বাচিত সাংসদ তথা অভিনেত্রী শতাব্দী রায় এবং কোচবিহার থেকে ২০২৪ সালে প্রথম বার নির্বাচিত সাংসদ জগদীশচন্দ্র বাসুনিয়া।
ওয়াকফ বিল নিয়ে প্রথম থেকেই বিরোধিতা করে এসেছে তৃণমূল। এই বিষয়ে যৌথ সংসদীয় কমিটির এক বৈঠকে একবার রক্তারক্তি কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্যসচেতক তথা শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
অথচ, আসল দিনে বিলের বিরোধিতা না করে, সংসদে অনুপস্থিত থাকলেন তৃণমূলের এই তিন হেভিওয়েট সাংসদ।
সুত্র মারফত জানা গেছে, তিনজনের মধ্যে একমাত্র অভিনেতা দেবই আগে থেকে জানিয়েছিলেন যে ওয়াকফ বিলে তার উপস্থিত থাকার সময় হবে না, কারণ তিনি শুটিঙয়ের কাজে ঝাড়খণ্ডে ব্যস্ত থাকবেন।
অন্যদিকে, জগদীশচন্দ্র বাসুনিয়া জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত কারণে তার উপস্থিত থাকা সম্ভব হয়নি। আর, শতাব্দী রায়ের থেকে কোন সাড়া মেলেনি।
প্রশ্ন উঠছে, তবে কি অনুপস্থিতির আড়ালে ওয়াকফ বিলকে সমর্থন যোগাচ্ছে তৃণমূল? দিনের পর দিন সংসদে অংশগ্রহণ না করে দায় ঝেড়ে ফেলতে চাইছেন দেব ও শতাব্দী রায়ের মতো ব্যক্তিরা?

এর আগেও বহুবার গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনগুলোতে অনুপস্থিত থেকেছেন তৃণমূলের সাংসদরা। এনআরসি-সিএএয়ের সময়ও একই জিনিস দেখা গেছে। মমতা ব্যানার্জি যখন একদিকে বিজেপির বিরুদ্ধে নিজেকে একমাত্র প্রতিরোধের প্রাচীর বলে দাবি করে আসছেন বারবার, তখন সংসদে তৃণমূলের এই দ্বিচারিতা ও নীতিহীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে। তাদের বিশ্বস্ততা নিয়ে তৈরি হচ্ছে সংশয়। বিরোধীরা কটাক্ষ করে বলছেন, আসলে তৃণমূল ও আরএসএসের মধ্যে অনেক আগে থেকেই গোপন আঁতাত রয়েছে। সংসদে অনুপস্থিত থাকা, আসল ইস্যুগুলোতে নীরব থাকা সেই বোঝাপড়ারই অংশ।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা অধিবেশনে মন্ত্রী, বিধায়কেরা ধারাবাহিকভাবে অনুপস্থিত থাকলে, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে তৃণমূলের পরিষদীয় দল। সাংসদের ক্ষেত্রেও কি শেষপর্যন্ত একই পথে হাঁটবে তৃণমূল?- তার কোনও সদুত্তর মেলেনি। তবে, তৃণমূলের এই ধারাবাহিক দ্বিচারিতাই বলে দিচ্ছে তারা কি করতে চলেছে।