
ফের এক মুঘল স্থপতি ভাঙ্গার জিগির তুলল দুই হিন্দুত্ববাদী সংগঠন- বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দল। এবার তাদের হুঁশিয়ারি, ঔরঙ্গজেবের সমাধি তার বর্তমান অবস্থান থেকে সরিয়ে না নিলে সেটার পরিণতিও বাবরি মসজিদের মতো করে দেওয়া হবে।
সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘ছাওয়া’ সিনেমাকে ঢাল করে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো সমাজে মুসলিম-বিরোধী মনোভাব তৈরির চেষ্টা করছে। ইতিহাস বিকৃতির সাহায্যে ছড়ানো হচ্ছে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ও আঘাত হানা হচ্ছে দেশের ধর্ম-নিরপেক্ষতার আদর্শের ওপর।
বজরং দলের নেতা নিতিন মহাজন হুমকি দিয়ে বলেছেন যে, মহারাষ্ট্র সরকার যদি ঔরঙ্গজেবের সমাধি সরানোর ব্যবস্থা না করে, তাহলে তার পরিণতিও বাবরি মসজিদের মতো হবে। হিন্দুত্ববাদী গীতিকার মনোজ মুনতাশির আবার একধাপ এগিয়ে অবমাননাকর দাবি করে জানিয়েছেন, ঔরঙ্গজেবের সমাধি না ভেঙ্গে সেটিকে যাতে শৌচালয়ে পরিণত করা হয়।
স্বাভাবিক ভাবেই এই ধরনের মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তুমুল নিন্দার ঝড় উঠেছে। এই উত্তেজনার জেরে মহারাষ্ট্র প্রশাসন ছত্রপতি শাম্ভাজিনগরের কুলতাবাদে অবস্থিত ঔরঙ্গজেবের সমাধি-ক্ষেত্রের চারপাশে অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে।
জীবৎকালে অত্যন্ত সাদামাটা জীবনযাপন করতেন মুঘল বাদশাহ ঔরঙ্গজেব। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন একজন নিষ্ঠাবান সুফি সাধক। সরকারি কোষাগার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে নিজের চোখ-ধাঁধানো সমাধি তৈরীর ঘোর বিরোধী ছিলেন তিনি। সম্রাটের পাশাপাশি আবার একজন শিল্পীও ছিলেন তিনি। নিজে নামাজি টুপি বুনতেন ও হস্তরেখায় নির্মিত কোরানের প্রতিলিপি (calligraphy) তৈরি করতেন। সেসব বিক্রি করে জীবনে যা কিছু সামান্য উপার্জন করেছিলেন, তাই দিয়েই তার নির্দেশ ছিল যাতে একটি অত্যন্ত অনাড়ম্বর কবর বানানো হয়। সেই নির্দেশ অনুযায়ী, মৃত্যুর পর তাকে তার সুফিগুরু শেখ জৈনুদ্দীনের পাশে কবরস্থ করা হয়। পরবর্তীকালে ইংরেজ আমলে, লর্ড কার্জনের অনুরোধে হায়দ্রাবাদের নিজাম তার কবরের চারদিক পাথর দিয়ে বাঁধাই করে দেন।
হিন্দুত্ববাদীদের এই দিনের-পর-দিন মসজিদ, মকবরা গুঁড়িয়ে দেওয়ার নিদান যে আসলে যুগ যুগ ধরে গড়ে ওঠা ভারতবর্ষের নানান ধর্মের মধ্যে পারাস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের ইতিহাসকে ধ্বংস করার চক্রান্ত, মহারাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ঘটনা তার সুস্পষ্ট উদাহরণ।