উত্তরপ্রদেশের বেরেলি জেলার মোহাম্মদগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা হাসিন খানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল এলাহাবাদ হাই কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হাসিন খানকে ২৪ ঘণ্টা পুলিশি সুরক্ষা দিতে হবে।
বুধবার মামলার শুনানিতে এই নির্দেশ দেন বিচারপতি সিদ্ধার্থ নন্দন ও বিচারপতি অতুল শ্রীধরনের ডিভিশন বেঞ্চ। হাসিন খান আদালতের কাছে আবেদন করেছিলেন, যাতে তার এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় এবং নিজের বাড়িতে নামাজ পড়ার অধিকার রক্ষা করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত একটি বড় বিতর্ক থেকে। অভিযোগ, নিজের ব্যক্তিগত জমির ভিতরে নামাজ পড়তে গিয়েই সমস্যার মুখে পড়েন হাসিন খান। এর আগে তারিক খান নামে আরেক ব্যক্তি রমজান মাসে ব্যক্তিগত জায়গায় নামাজ পড়ার অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিলেন। সেই প্রেক্ষিতেই বিষয়টি আদালতের নজরে আসে।
এর আগে এক মামলায় আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল, ব্যক্তিগত সম্পত্তির ভিতরে ধর্মীয় প্রার্থনা বা জমায়েত করতে সরকারের আলাদা অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে শর্ত একটাই— সেই প্রার্থনা বা জমায়েত যেন রাস্তাঘাট বা জনসমাগমের জায়গায় ছড়িয়ে না পড়ে। আদালত বলেছিল, সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের ধর্ম পালনের অধিকার রয়েছে।
শুনানির সময় হাসিন খান আদালতকে জানান, একদিন বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নামাজ পড়ার সময় পুলিশ তাকে আটক করে। পরে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং একটি চালান কাটা হয়। তিনি আরও দাবি করেন, নিরক্ষর হওয়ায় তিনি যে কাগজে সই করছেন তা পড়তে পারেননি। সেই অবস্থায় পুলিশ তাকে একটি নথিতে জোর করে বুড়ো আঙুলের ছাপ দিতে বাধ্য করে।
হাসিন খানের আরও অভিযোগ, আরিফ প্রধান ও মুখতিয়ার নামে দুই ব্যক্তি তাকে হুমকি দিয়েছেন। তাদের দাবি, আদালতে নির্দিষ্টভাবে সাক্ষ্য না দিলে তার বাড়ির বিরুদ্ধে বুলডোজার চালানো হবে। এই হুমকির পরই তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন।
সব দিক বিবেচনা করে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, হাসিন খান যেখানেই যান না কেন, তার সঙ্গে দু’জন সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী থাকবে। আদালত আরও জানিয়েছে, তার বা তার সম্পত্তির বিরুদ্ধে কোনও ধরনের হামলা হলে প্রাথমিকভাবে তা প্রশাসনের দায় বলে ধরা হবে, যদিও পরে সেই ধারণা খণ্ডন করার সুযোগ থাকবে।
এই মামলায় বেরেলির জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অবিনাশ সিং এবং সিনিয়র সুপারিন্টেনডেন্ট অব পুলিশ অনুরাগ আর্যকে আগামী ২৩ মার্চ ব্যক্তিগতভাবে আদালতে হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই দিনই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। আদালতের নির্দেশ না মানলে তাদের বিরুদ্ধে নন-বেলেবল ওয়ারেন্ট জারি হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।


