সম্প্রতি সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, প্রায় ১২ বছরের এক কিশোর পবিত্র ঈদকে কেন্দ্র করে মুসলিমদের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক মন্তব্য করছে। এই ঘটনার পর অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় এক প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার সময় কিশোরটি উত্তেজিত ভঙ্গিতে দাবি করছে, যে এই বার ঈদ পালিত হবে না, বরং মুসলিমদেরই আক্রমণ করা হবে। তার চারপাশে উপস্থিত কয়েকজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে সেই সময় হাততালি দিতে ও উল্লাস করতে দেখা যায়।
কিশোরটি আরও বলে, ঈদের দিন নাকি হিন্দুরা হাতে বেলুন নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে এবং মুসলিমদের দিকে শূকরের মাংস ছুড়ে দেবে। এমনকি কোনও মুসলিমকে দেখলে আক্রমণ করার কথাও সে বলে। প্রতিবেদক যখন তাকে জিজ্ঞাসা করেন, তার বয়সে এমন কথা বলা কি ঠিক, তখনও সে নিজের বক্তব্য থেকে সরে আসেনি। উল্টে সে দাবি করে, সে একাই অনেক মানুষকে হত্যা করতে পারে।
এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই বলেছেন, এত অল্প বয়সের একটি শিশুর মুখে এমন হিংসাত্মক ও বিদ্বেষপূর্ণ ভাষা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অনেকে মনে করছেন, শিশুদের মধ্যে ঘৃণা ছড়িয়ে পড়া সমাজের জন্য বিপজ্জনক ইঙ্গিত।
এই ঘটনা এমন এক সময় সামনে এসেছে, যখন রাজধানী দিল্লির উত্তম নগরে হোলি উৎসবের সময় একটি মারাত্মক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। গত ৫ মার্চ সেখানে জলভর্তি বেলুন ছোড়াকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে বচসা শুরু হয়। পরে সেই ঝামেলা মারামারিতে রূপ নেয় এবং ২৬ বছর বয়সি তরুণ কুমারের মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর পুলিশ সাতজনকে গ্রেফতার করে, যার মধ্যে একজন নাবালকও রয়েছে। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এটি মূলত দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিবাদের ফল, যদিও ঘটনাকে ঘিরে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এর পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা উসকানিমূলক পোস্ট ও মন্তব্য ছড়াতে শুরু করেছে। কয়েকটি সংগঠনের তরফেও মুসলিমদের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগ উঠেছে।


