নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন লোকসভায় কংগ্রেসের ডেপুটি লিডার গৌরব গগৈ। ওয়াকফ সংশোধনী বিল ২০২৪-কে তিনি “সংবিধানের মূল স্তম্ভের উপর প্রচ্ছন্ন আঘাত” বলে অভিহিত করেছেন। গগৈয়ের অভিযোগ, এই বিলের পিছনে সরকারের কুৎসিত উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে—সংবিধানকে খর্ব করা, সংখ্যালঘুদের মানহানি করা, সমাজে ফাটল ধরানো এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া। তিনি সরকারের এই পদক্ষেপকে “বিভাজন ও শাসন” নীতির একটি জঘন্য প্রয়াস বলে সমালোচনা করেছেন।
গৌরব গগৈ স্পষ্ট করে বলেছেন, “এই বিল সংবিধানে দেওয়া মৌলিক স্বাধীনতার উপর সরাসরি আক্রমণ।” তিনি বিজেপি সরকারের উপর অভিযোগের ঝড় তুলে বলেন, এই আইনের মাধ্যমে সংবিধানের গায়ে কালি মাখানোর চেষ্টা চলছে। সংখ্যালঘুদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়িয়ে সমাজকে টুকরো টুকরো করাই এর লক্ষ্য। তাঁর দাবি, এটি কেবল একটি সম্প্রদায়ের অধিকার কাড়াকাড়ির চক্রান্ত নয়, বরং দেশের সামগ্রিক ঐক্যের ভিত নড়বড়ে করার ষড়যন্ত্র।
ইতিহাসের পাতা উল্টে গগৈ বিজেপি ও আরএসএস-কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, “ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে কোন সম্প্রদায় কম অবদান রাখেনি। মঙ্গল পাণ্ডের পাশে কারা প্রাণ দিয়েছিল? ২ লক্ষের বেশি উলেমা কি শহীদ হননি? গান্ধীজির ডান্ডি মার্চে কারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলেছিল? ১৯২৬ সালে ব্রিটিশদের ‘বিভাজন ও শাসন’ নীতির বিরুদ্ধে কারা রুখে দাঁড়িয়েছিল?” তিনি আরও যোগ করেন, “যখন আরএসএস ভারত ছাড়ো আন্দোলনের বিরোধিতা করে ব্রিটিশদের কাছে ক্ষমা চাইছিল, তখন সংখ্যালঘু সম্প্রদায় দেশের জন্য রক্ত ঝরাচ্ছিল। আজ তারাই এই সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে!”

বিজেপির “ডাবল ইঞ্জিন সরকার” নীতির তীব্র সমালোচনা করে গগৈ বলেন, “এরা এখন সংখ্যালঘুদের প্রতি সহানুভূতির নাটক করছে, কিন্তু আসলে এদের মনস্থির সমাজকে ভাঙতে। সম্প্রতি ঈদের সময়ও বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে মানুষ শান্তিতে নামাজ পড়তে পারেনি। এরা প্রথমে বলুক, তাদের দলে কতজন সংখ্যালঘু সাংসদ আছে?” তিনি সরকারের এই দ্বিচারিতাকে জনগণের সামনে তুলে ধরে তাদের মুখোশ খুলে দিয়েছেন।
গগৈয়ের মতে, এই নতুন বিল কেবল জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তিনি বলেন, “আগের আইনে বোর্ডে দুইজন নারী সদস্য এবং বিধবা ও তালাকপ্রাপ্ত নারীদের জন্য সুবিধা ছিল। কিন্তু এই বিলের পিছনে সরকারের উদ্দেশ্য অন্য।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালে সংখ্যালঘু বিষয়ক কমিটি পাঁচবার বৈঠক করলেও এই বিল নিয়ে একটিবারও আলোচনা হয়নি। এটি সরকারের স্বচ্ছতা ও সততা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।
বিতর্কের মাঝে গগৈ বিস্ফোরক দাবি করে বলেন, “সরকারের আসল লক্ষ্য সংখ্যালঘুদের জমি। আজ এটা তাদের জমি, কাল এটা অন্য সম্প্রদায়েরও হতে পারে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, “এই সরকার দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে ছিন্নভিন্ন করতে বদ্ধপরিকর। জনগণকে সজাগ থাকতে হবে।”
গৌরব গগৈয়ের এই তীক্ষ্ণ সমালোচনা বিজেপি সরকারের সংখ্যালঘু নীতি ও সামাজিক ন্যায়ের প্রতিশ্রুতির ফাঁকফোকর বের করে দিয়েছে। তাঁর অভিযোগগুলি জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া ফেলেছে এবং সরকারের কাছে জবাব চাওয়ার দাবি উঠেছে। এই ঘটনা আগামী দিনে রাজনৈতিক ময়দানে বড় ঝড় তুলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।