নতুন দিল্লি, ২৭ মার্চ ২০২৪: বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে চিঠি লিখেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই চিঠিতে দু’দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক, বিশেষত ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকা ও বর্তমান দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। মোদীর এই উদ্যোগকে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেছেন, “বাংলাদেশের জাতীয় দিবসে আমি আপনাকে ও বাংলাদেশের জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। এই দিনটি আমাদের অভিন্ন ইতিহাস ও ত্যাগের সাক্ষ্য বহন করে, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করেছে।” তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সম্পর্কের মৌলিক দিক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “এই চেতনা আমাদের জন্য পথপ্রদর্শক, যা নানা ক্ষেত্রে সমৃদ্ধি এনে দিয়েছে।” এছাড়া, শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য পারস্পরিক সংবেদনশীলতা ও সহযোগিতার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেন তিনি।

বাংলাদেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন ও ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। এসময় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংস, ভারতের অবদানকে খাটো করা এবং সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা দু’দেশের সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে। গত ডিসেম্বরে ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রির ঢাকা সফর ও ফেব্রুয়ারিতে মাসকাটে বাংলাদেশের প্রতিনিধি তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের আলোচনা হয়েছে। মোদীর চিঠিকে এই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
৩-৪ এপ্রিল ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হতে চলা বিমস্টেক শীর্ষ সম্মেলনে মোদী ও ইউনূসের উপস্থিতির কথা রয়েছে। কূটনৈতিক মহল মনে করছে, এই সম্মেলন দু’দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষত, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের নিয়মিত যোগাযোগের প্রসঙ্গটি গত সপ্তাহে বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করও উল্লেখ করেছেন।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর বেড়ে চলা হিংসা ভারতের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। গত কয়েক মাসে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দিরে হামলা, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনায় ভারত বার বার প্রতিবাদ জানিয়েছে। মোদীর চিঠিতে প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি বর্তমান সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের ইঙ্গিতও রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন সত্ত্বেও ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী। মুক্তিযুদ্ধের সময় গড়ে ওঠা ঐতিহাসিক বন্ধনকে পুনর্ব্যক্ত করে মোদীর চিঠি কূটনৈতিক সৌজন্য ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনারই ইঙ্গিত দেয়। তবে সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।