ইরান সম্প্রতি অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের দেশে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে। ইরানের দাবি, চলতি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এই হামলায় দেশের বহু সাধারণ মানুষের বাসস্থান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে প্রায় দশ হাজার বেসামরিক স্থানে বোমা পড়েছে বা সেগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি বলেন, এই হামলাগুলির ফলে দেশের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। বহু বাড়িঘর, জনসাধারণের ব্যবহারের স্থাপনা এবং জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত অবকাঠামো নষ্ট হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং বহু পরিবার ঘরছাড়া হয়েছে।
ইরানের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট ৯,৬৬৯টি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ৭,৯৪৩টি বসতবাড়ি, ১,৬১৭টি ব্যবসা বা পরিষেবা কেন্দ্র, ৩২টি হাসপাতাল ও ওষুধ সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান এবং ৬৫টি স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সংস্থার অন্তত ১৩টি ভবন হামলায় আঘাত পেয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, জ্বালানি মজুত কেন্দ্র, বিদ্যুৎ ও শক্তি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিও হামলার শিকার হয়েছে। এসব ক্ষতির কারণে বহু এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে এবং পরিষেবা ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
তেহরান শহরসহ বিভিন্ন জায়গায় জ্বালানি সংরক্ষণাগারে হামলার ফলে আগুন লাগে এবং বাতাসে দূষিত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে শ্বাসকষ্টের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
ইরানের দাবি, তেহরানের মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও হামলা হয়েছে, যেখানে কিছু বেসামরিক বিমান ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কেশম দ্বীপের একটি মিঠা জল তৈরির কারখানায় আঘাত হানার ফলে আশপাশের গ্রামগুলিতে জল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে বলেও অভিযোগ।
অন্যদিকে, লেবাননের বেইরুটে একটি হোটেলে হামলায় চারজন ইরানি কূটনীতিক নিহত হয়েছেন বলেও ইরান অভিযোগ করেছে। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে এবং আন্তর্জাতিক মহল এই সংঘাত দ্রুত থামানোর আহ্বান জানিয়েছে।


