লেবাননে আবারও তীব্র আক্রমণ চালাল ইসরায়েল। বুধবার ভোর থেকে দেশটির বিভিন্ন জায়গায় একের পর এক বিমান ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। লেবাননের সরকারি সূত্র এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই হামলায় অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে পূর্ব ও দক্ষিণ লেবাননের বেশ কয়েকটি এলাকা। এমনকি রাজধানী বৈরুটেও আঘাত হানা হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এখন দেশের কোনও জায়গাই আর পুরোপুরি নিরাপদ নয়। লেবাননের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ভোরবেলায় বালবেক জেলার তামনিন আল-তাহতা এলাকায় বিমান হামলায় সাতজনের মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হন। রাতভর এই অঞ্চলের একাধিক জায়গায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।দক্ষিণ লেবাননের বিনত জবেইল জেলার সাফ আল-হাওয়া এলাকায় একটি গাড়িতে ড্রোন হামলা চালানো হয়। সেই ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আল-শাহাবিয়া এলাকায় রাতের হামলায় আরও সাতজন প্রাণ হারান এবং অন্তত ১১ জন আহত হন বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে নাবাতিয়েহ এবং বেকা উপত্যকার জ্লায়া এলাকাতেও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। এই দুই জায়গায় পৃথক ঘটনায় আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।রাজধানী বৈরুতের আইশা বাক্কার এলাকায় একটি বহুতল আবাসনে হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণে ভবনের এক বা দুইটি তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েকটি ফ্ল্যাটে আগুন ধরে যায়। ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন বলে খবর। এই ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জরুরি পরিষেবার কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হামলা হতে পারে, যদিও আসল লক্ষ্য এখনও স্পষ্ট নয়।এই হামলার মধ্যেই হেজাবল্লাহ পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালিয়েছে। লেবানন সরকারের দাবি, গত সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া নতুন সংঘর্ষে ইতিমধ্যে কয়েকশ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। বহু মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।এই পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। মানবিক সংকটের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় ফ্রান্স লেবাননে জরুরি ত্রাণ পাঠানোর ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ দ্রুত সংঘর্ষ কমানোর আহ্বান জানিয়েছে, কারণ হাজার হাজার সাধারণ মানুষ এখন যুদ্ধের মাঝখানে আটকে পড়েছেন।
Popular Categories


