Friday, March 13, 2026
33.9 C
Kolkata

কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার আশ্বস্ত করেও, রান্নার গ্যাসের ঘাটতিতে নাজেহাল সাধারণ মানুষ! চাপে হোটেল ও হাসপাতাল পরিষেবা

দেশজুড়ে রান্নার গ্যাসের ঘাটতি এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংকটের প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন থেকে শুরু করে হোটেল, হাসপাতাল ও ছোট ব্যবসার উপরও। অনেক এলাকায় সকাল থেকেই গ্যাস সরবরাহকারী দপ্তরের সামনে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা প্রতিবাদও করছেন। একই সঙ্গে পেট্রোল পাম্পগুলিতে গাড়ির দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ছে, যা পরিস্থিতির জটিলতা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

গ্যাসের অভাবের কারণে হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলিতেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। রোগীদের জন্য খাবার তৈরি করা বা নির্দিষ্ট ডায়েট সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। স্কুলগুলিতে শিশুদের জন্য ‘মিড ডে মিল’ তৈরি করা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠছে। অনেক জায়গায় রান্নার ব্যবস্থা ঠিকমতো করা যাচ্ছে না।

এদিকে শহর ও মফস্বলের বহু ফাস্টফুডের দোকান একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই দোকানগুলির উপর অনেক কর্মহীন মানুষের জীবিকা নির্ভর করত। গ্যাস না পাওয়ায় তাঁদের কাজ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, অনেক দোকানদার বলছেন যদি দ্রুত সমাধান না হয়, তাহলে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না।

গ্যাসের ঘাটতির ফলে বিকল্প রান্নার উপকরণের দামও দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে ইনডাকশন কুকার ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রের চাহিদা বেড়েছে। তবে এগুলি কিনতে গেলে অতিরিক্ত খরচের পাশাপাশি বিদ্যুতের বিলও বাড়বে বলে অনেকেই চিন্তায় পড়েছেন। যারা কাজের সূত্রে বাড়ির বাইরে থাকেন এবং ছোট সিলিন্ডার ব্যবহার করে রান্না করতেন, তাঁদেরও এখন সেই সিলিন্ডার জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে রাজ্য সরকার দাবি করেছে, সরকারি স্তরে পর্যাপ্ত গ্যাস মজুত রয়েছে। তবে বাস্তবে সরবরাহের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগ নিয়ে কালোবাজারি শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠছে। অনেক ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক সিলিন্ডার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। আবার নিয়ম ভেঙে হোটেল বা দোকানে গার্হস্থ্য সিলিন্ডার ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও জানা যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন জেলায় প্রশাসনের তরফে তল্লাশি অভিযান চালানোর বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। গ্যাস ডিলারদের গুদাম ও অফিসে নজরদারি বাড়ানো একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকে। ঝাড়গ্রাম ও খড়গপুরের কয়েকটি সরকারি ক্যান্টিনে আপাতত গার্হস্থ্য সিলিন্ডার ব্যবহার করে রান্না চালানো হচ্ছে। তবে সেখানকার কর্মীদের বক্তব্য, মজুত গ্যাস আর কয়েক দিন চলবে, তারপর পরিস্থিতি কঠিন হয়ে যেতে পারে।

বর্তমানে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম প্রায় ১৯৯০ টাকা। কিন্তু অনেক জায়গায় এর জন্য ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। অন্যদিকে গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকায় গ্যাস বুকিংয়ের নিয়মও কঠোর করা হয়েছে। এখন সেখানে একটি সিলিন্ডার বুক করার পর পরবর্তী বুকিং করতে হলে ৪৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে।

Hot this week

উত্তরপ্রদেশের সম্ভলে মসজিদ-দরগা উচ্ছেদের নির্দেশ আদালতের, ইমামদের দিতে হবে প্রায় ৭ কোটি জরিমানা!

উত্তরপ্রদেশের সম্ভল জেলায় একটি মসজিদ, একটি দরগা এবং কয়েকটি...

‘পশ্চিম এশিয়ায় থাকা মার্কিন সেনাঘাঁটি না সরালে হামলা চলতে থাকবে’, বাবার মতই কড়া হুঁশিয়ারি মোজতবা খামেনির

পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন বার্তা...

‘মাত্র ৫ হাজার টাকা বেতন পেয়ে সংসার টানা দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে’, আনএইডেড মাদ্রাসার অবস্থান কর্মসূচি পৌঁছল ৮৬ দিনে

পশ্চিমবঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষকদের আন্দোলন দীর্ঘদিন ধরে চলছে। বৃহস্পতিবার এই...

রমজানে আল-আকসা মসজিদের ফটক বন্ধ করায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ৮ মুসলিম দেশের তীব্র নিন্দা!

রমজান মাসে মুসলিমদের জন্য অন্যতম পবিত্র স্থান আল-আকসা মসজিদের...

“অদৃশ্য সেন্সরশিপ”-কে হাতিয়ার করে আমজনতার কণ্ঠরোধ! সোশ্যাল মিডিয়া থেকে মুছে যাচ্ছে মোদি বিরোধী পোস্ট

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে ব্যঙ্গ, সমালোচনা বা...

Topics

“অদৃশ্য সেন্সরশিপ”-কে হাতিয়ার করে আমজনতার কণ্ঠরোধ! সোশ্যাল মিডিয়া থেকে মুছে যাচ্ছে মোদি বিরোধী পোস্ট

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে ব্যঙ্গ, সমালোচনা বা...

বাসরাই মার্কিন মালিকানাধীন তেলবাহী জাহাজে হামলা, নিহত এক ভারতীয় নাবিক

পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা উত্তেজনার মধ্যে প্রাণ হারালেন এক...

Related Articles

Popular Categories