
নদিয়ার কৃষ্ণনগরে টাকার অভাবে শববাহী গাড়ি না পেয়ে ইঞ্জিনভ্যানে মায়ের মরদেহ বহন করতে বাধ্য হয় একাদশ শ্রেণীর শিশু। শুক্রবার সকালে তেহট্ট থানার তরণীপুর গ্রামের ৪৫ বছর বয়সী জাহেরা বিবি কিডনির সমস্যা নিয়ে কন্যাসহ বেসরকারি বাসে চেপে কৃষ্ণনগর যাচ্ছিলেন চিকিৎসার আশায়। কিন্তু ঘূর্ণি এলাকায় প্রবেশের আগেই তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। বাসকর্মীরা তাকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কাছে নামিয়ে দিয়েই চলে গিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।
সেই সময় থেকে মায়ের প্রাণ বাঁচাতে ছোট্ট মেয়েটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বারবার সাহায্য চাইলেও কোনো সাড়া মেলেনি। পথচারীদের ভিড় জমলেও কেউ এগিয়ে আসেননি। পরবর্তীতে দুই স্বাস্থ্যকর্মী এসে জাহেরাকে মৃত ঘোষণা করলেও মরদেহ নেওয়ার কোনো ব্যবস্থা করেননি। মেয়েটির কাছে অ্যাম্বুল্যান্সের খরচও ছিল না। স্থানীয় এক ব্যক্তি ২ হাজার টাকা দাবি করায় সময়ক্ষেপণের পর শেষে ইঞ্জিনভ্যানে করে ৪০ কিলোমিটার দূরের গ্রামে ফেরার করুণ দৃশ্য তৈরি হয়।

এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক ব্যর্থতা নিয়ে। কৃষ্ণনগর পুরসভার স্বাস্থ্যকেদ্রের চিকিৎসক বিশ্বনাথ বর্মণ দাবি করেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। অন্যদিকে, বাস মালিক সমিতির সম্পাদক তপন ঘোষ ঘটনাকে “অমানবিক” আখ্যা দিয়ে তদন্তের আশ্বাস দেন। স্থানীয় তৃণমূল নেতা মলয় দত্ত পুরসভার পরিষেবার সমালোচনা করে বলেন, “ট্যাক্সের টাকায় চালিত প্রতিষ্ঠানে এমন উদাসীনতা গ্রহণযোগ্য নয়।” বিজেপি প্রতিনিধি সন্দীপ মজুমদার প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি কালাহান্ডিতে স্বামীর কাঁধে স্ত্রীর মরদেহ বহনের ঘটনার পর নদিয়ায় এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অনেকেই “সমব্যথী” প্রকল্পের ব্যর্থতাকে কটাক্ষ করছেন। পুরসভার চেয়ারপার্সন রীতা দাস ঘটনা তদন্তের কথা জানালেও এখনও পর্যন্ত কোনো রূপরেখা প্রকাশ করা হয়নি।
এই মর্মান্তিক ঘটনা সাধারণ মানুষের কাছে স্বাস্থ্য পরিষেবা ও প্রশাসনিক দায়িত্বশীলতার গুরুত্ব পুনরায় চিন্তায় ফেলেছে। গরিব মানুষের দুর্দশায় রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ভূমিকা কোথায়—এই প্রশ্নটি এখন চারিদিকে।