নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে দেশের বিভিন্ন অংশে মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে আক্রমণের অব্যহত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছে কমিউনিস্ট পার্টির (মার্কসবাদী) পলিট ব্যুরো।
এক বিবৃতিতে দলটি গত তিন সপ্তাহের ব্যবধানে ঘটে যাওয়া হিন্দুত্ববাদীদের তিনটি ঘটনার কথা তুলে ধরেছেন।
ওই বিবৃবিতে বলা হয় “ছত্তিশগড়ের রাজধানী রায়পুরে, গরু পরিবহনকারী তিনজন মুসলিম পুরুষকে গরু চোরাচালানকারী হিসাবে চিহ্নিত করে গোরক্ষকদের দ্বারা হত্যা করা হয়েছে। আলিগড়ে, চুরির অভিযোগে একজন মুসলিম ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মধ্যপ্রদেশের মান্ডলায় ফ্রিজ থেকে ‘গরুর মাংস’ উদ্ধারের অভিযোগের পরে ২৪ ঘন্টার মধ্যে মুসলমানদের এগারোটি বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়েছে। লখনউয়ের আকবরনগরে একটি মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় নদীতীর নির্মাণের জন্য এক হাজারেরও বেশি পরিবারের বাড়ি ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে।
ওই বিবৃতিতে আরো বলা হয়, গুজরাটের ভাদোদরায় মুখ্যমন্ত্রীর আবাসন প্রকল্পের অধীনে একটি মুসমলিম মহিলাকে ফ্ল্যাট বরাদ্দ করায় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা প্রকাশ্যে প্রতিবাদে নেমেনে। হিমাচল প্রদেশের নাহানে, ঈদ-উল-আযহায় গরু কোরবানি দেওয়ার অভিযোগে এক মুসলমানের দোকান লুট ও ভাঙচুর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে গরু জবাইয়ের অভিযোগে মামলাও দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর শহরের অন্য ১৬ জন মুসলিম দোকানের মালিককে পালিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।
ওই বিবৃতিতে আরো বলা হয়, দিল্লির সঙ্গম বিহারে উপাসনালয়ের কাছে একটি গরুর মৃতদেহ উদ্ধারের পরে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্যদের উস্কানিমূলক বক্তৃতা দেওয়ার পর বাসিন্দারা এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
দলটির মতে, “লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ভাল না করায় সাম্প্রদায়িক হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে। হিন্দুত্ববাদী সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলি নতুন করে প্রতিশোধের সাথে ধর্মীয় মেরুকরণের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।”


