
গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া সরকার-বিরোধী আন্দোলনে উত্তাল তুরস্ক। সরকারি সুত্র মতে, বিক্ষোভ-জমায়েতে শামিল হওয়ার অভিযোগে এখনো পর্যন্ত ধৃতের সংখ্যা মোট ১১৩৩। তুরস্কের সাংবাদিক ইউনিয়নের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ধৃতদের মধ্যে দেশ-বিদেশের ৯জন সাংবাদিকও রয়েছেন।
ইস্তানবুলের মেয়র একরেম ইমামওগলুর গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে গত বুধবার থেকে প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে তুরস্ক। একরেম ইমামওগলু তুরস্কের বিরোধী দল রিপাব্লিকান পিপেলস পার্টির নেতা ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ।
প্রথমে একরেম ইমামওগলুকে মেয়র পদ থেকে অপসারিত করা হয় বুধবার। এরপর তাকে দুর্নীতি এবং সন্ত্রাসবাদী কাজকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই গতকাল তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দিয়েছে আদালত।

একরেমের গ্রেফতারির পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছিল তুরস্কের মানুষ। গতকাল তিনি জেলে ঢোকার পর থেকে অশান্তি আরো বেড়েছে, আঙ্কারা ইস্তাম্বুলের মত শহরের রাস্তায় উপচে পড়েছে প্রতিবাদীদের ভিড়। রাষ্ট্রপতি রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, প্রতিবাদের নামে অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপ করা যাবে না তুরস্কের রাস্তায়। তেমনি কঠোর হাতে বিক্ষোভ দমনে নেমেছে পুলিশ।
বিরোধীদের তরফ থেকে রাষ্ট্রপতি এরদোগানের বিরুদ্ধে দেশের বিচার-প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠছে। তাদের মতে, একরেম ইমামওগলু আগামী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এরদোগানের প্রধান প্রতিপক্ষ- একরেমের বিরুদ্ধে সরকারের আনা যাবতীয় অভিযোগ উদ্দেশ্য-প্রণোদিত ও প্রতিহিংসা-মূলক।

আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ-মহলের পর্যবেক্ষণ, তুরস্কের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় আকারের আন্দোলন ।