উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লক্ষ্ণৌতে হোলির দিনে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। শুধু উৎসবের শুভেচ্ছা জানানোর কারণেই প্রাণ হারাতে হল ২২ বছরের যুবক সূরজ গৌতমকে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৪ মার্চ দুবাপ্পা এলাকায়। এই ঘটনায় আবারও সামনে এসেছে, বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশে দলিতদের উপর অত্যাচারের সুস্পষ্ট ছবি।
জানা গেছে, হোলির দিন সূরজ তাঁর প্রতিবেশী মানোর তিওয়ারিকে উৎসবের শুভেচ্ছা জানান। কিন্তু এই সাধারণ ঘটনাই পরে বড় সংঘর্ষের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অভিযোগ, সূরজ দলিত সম্প্রদায়ের হওয়ায় তথাকথিত উচ্চবর্ণের মানুষকে শুভেচ্ছা জানানোকে মানতে পারেননি মানোর তিওয়ারি। এই নিয়েই প্রথমে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরে সেই ঝগড়া দ্রুত তীব্র আকার নেয়। বচসার সময় মানোর তিওয়ারির মা রঞ্জনা ও বোন শিবানীও সেখানে এসে সূরজকে অপমানজনক ভাষায় আক্রমণ করেন বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে যখন শিবানী হঠাৎ একটি ধারালো অস্ত্র নিয়ে সূরজের উপর হামলা করেন। তিনি পরপর তিনবার আঘাত করেন বলে জানা গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় সূরজকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে বাঁচাতে পারেননি। সেদিনই তাঁর মৃত্যু হয়।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর সূরজের উপর হামলার কিছু ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে নেটিজনদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়ায়। সূরজের পরিবার এই ঘটনার কঠোর শাস্তি দাবি করেছে। তাঁর মায়ের প্রশ্ন, শুধু হোলির শুভেচ্ছা জানানোর জন্য কি কারও জীবন কেড়ে নেওয়া যায়? তাঁর অভিযোগ, জাতিগত পরিচয়ের কারণেই তাঁর ছেলেকে এই পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে।
এদিকে সংসদেও সম্প্রতি দলিতদের উপর অত্যাচারের প্রসঙ্গ উঠেছে। কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ন প্রতিমন্ত্রী রামদাস আথাওয়ালে জানিয়েছেন, ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী দেশে এই ধরনের অপরাধের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ২০২১ সালে প্রায় ৫০ হাজারের বেশি, ২০২২ সালে ৫৭ হাজারের বেশি এবং ২০২৩ সালে প্রায় ৫৮ হাজার দলিত নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে উত্তরপ্রদেশে, যেখানে ২০২৩ সালে ১৫ হাজারেরও বেশি অভিযোগ সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতি দেশে সামাজিক সমতা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।


