একুশের সভায় পুলিশের বাধা নিয়ে ভাষা বিরোধিতার অভিযোগ আব্বাসের

ভাষা দিবস উৎযাপনে বাধা আইএসএফকে। অস্থায়ী মঞ্চ থেকে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা আবাস সিদ্দিকীর। তারপর  গর্জে উঠলেন তিনি। রাজারহাট নিউটাউন বিধানসভার নতুনপুকুর হাজরাতলা থেকে আইএস এফ সুপ্রিমো বলেন, ‘তৃণমূল সরকার আর থাকবে না! বাংলা ভাষা বিরোধী এই সরকারকে তাড়াবই।

উল্লেখ্য, হাজী কওসার আলীর উদ্যোগে এয়ারপোর্টের কাছাকাছি চিনারপার্কে অমর একুশে ভাষা দিবস উৎযাপনের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত থাকার কথা ছিল আব্বাস সিদ্দিকীর। অভিযোগ,  পুলিশ অনুমতি বাতিল করে। বারবার এ থানা থেকে ও থানা, এক আধিকারিক থেকে আর এক আধিকারিক ঘোরানো হয়। তারপর তাঁরা নিউটাউনের শিরীষতলাতে অনুষ্ঠান করবেন বলে ঠিক করেন। অভিযোগ সেখানেও বিধাননগর সিটি পুলিশ বাধা দেয়। তারপর আইএস এফ সদস্যরা জড়ো হতে থাকে ভাঙড় লাগোয়া সিক্সলেন রাস্তার উপর নতুনপুকুর হাজরাতলাতে। সেখানে উত্তেজিত জনতা পথে বসে পড়ে স্লোগান দিতে থাকে। ঘটনাস্থলে আসে বিশাল পুলিশ বাহিনী। অন্যদিকে আব্বাস সিদ্দিকী ফোনিংয়ে সমর্থদের রাস্তা অবরোধ তুলে নিতে বলেন। তখন সমর্থকরা পাশের মাঠে জড়ো হন। সেখানে গাড়ীর উপরেই অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করেন।

কিছুক্ষণের মধ্যেই আব্বাস সিদ্দিকী এসে উপস্থিত হন। ভাষা দিবস উৎযাপন অনুষ্ঠানে পুলিশের বাধা সম্পর্কে তিনি বাংলা ভাষার জন্য যে সমস্ত বাংলার বীর সন্তান শহীদ হয়েছিলেন তাঁদের স্মরণ করে বলেন, ‘বর্তমান সরকার আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠান করতে যেভাবে প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে আমাদের বাধা দিয়েছে সেটা কোনও বাঙালিই মেনে নিতে পারে না। কারণ বাঙালির রক্তে রাঙা এই ২১শে ফেব্রুয়ারী কোনও বাঙালি ভুলতে পারে না। আমি একজন স্বাধীনতা সংগ্রামীর পরিবারের সদস্য কি করে ভুলতে পারি?’

পীরজাদা আরও বলেন, ‘আমি প্রতিবছর আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে থাকি কিন্তু একজন বাঙালি মুখ্যমন্ত্রীর আমলে আমরা বাঙালিরা এই অনুষ্ঠান পালন করতে পারছিনা? এটা গণতন্ত্রের লজ্জা এবং বাঙালির লজ্জা’। আব্বাস সিদ্দিকীর অভিযোগ,‘আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস উৎযাপন অনুষ্ঠানে বাধা দিয়ে তৃণমূল বুঝিয়ে দিল তাঁরা বাংলা ভাষা বিরোধী। অমিত শাহ আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। উভয়েই বাংলা ও বাংলা ভাষা বিরোধী!’ তিনি বলেন,‘বাংলা ভাষাকে অপমানের পর আমি আর বসে থাকতে পারিনা। আমি আর কোন বিশ্রাম নেব না! লাগাতার এই ভাষা বিরোধী সরকারের প্রতি আন্দোলন করে যাবো। এই সরকারকে তাড়িয়েই ছাড়ব!

আইএসএফ সভাপতি শিমুল সোরেন বলেন, ‘আজ তৃণমূলের পুলিশ ও গুন্ডারা ভাষা দিবস পালন করতে বাধা দিয়েছে। আমরা একুশের নব্বান্নতে ঠিক এরকম ভাবেই বাধা দেবো! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্নে যেতে পারবেন না! আমরাই সরকার গঠন করবো!’

এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন নাসিরউদ্দিন মির, অধ্যাপক রেজমান মল্লিক, নিজামুদ্দিন, কুতুবউদ্দিন ফাতেহি,হাজি কওসার, দীলিপ নস্কর, বিশ্বজিৎ দাস সহ থানা শাখা কমিটির নেতৃত্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *