দিল্লি দাঙ্গায় এনডিটিভির ভিডিও দেখে তিন মুসলিমকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিল দিল্লি হাইকোর্ট

দিল্লির দাঙ্গায় গুলি চালিযে সাম্প্রদায়িক হাঙ্গামার সময় সংখ্যাগুরুর সম্প্রদাযের উপর গুলি ছুড়েছে ও পাথর চালিয়েছে। সেই সঙ্গে তারাই নিজ ধর্মের শহিদ নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যাও করেছিল বলে অভিযোগে তিন ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। কিন্তু এনডিটিভি সাংবাদিক রবিশ কুমারের ‘প্রাইম টাইম’-এ ব্যবহৃত ভিডিও আদালতে দেখানোর পর তা খতিয়ে দেখে ওই তিনজনের মুক্তি দিল দিল্লি হাইকোর্ট। ওই ভিডিওর ছবি বড় করার পর দেখা যায় যে তিনজনের বিরুদ্ধে গুলি চালানার অভিযোগ করা হয়েছে তারা তো নয়ই এবং যেখান থেকে গুলি চালনার কথা বলা হয়েছিল সেখানকারই নয়। তাই তাদেরকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিল দিল্লির হাইকোর্ট। রবিশ কুমারের প্রাইম টাইমের ভিডিওর জন্য মুক্তি পাওয়া ওই তিন ব্যক্তি হলেন জুনায়েদ, চাঁদ মোহাম্মদ এবং ইরশাদ। ২০২০ সালের ১ এপ্রিল থেকে এই  তিনজন পুলিশি হেফাজতে ছিল। দিল্লি হাইকোর্ট সব কিছু খতিয়ে দেখে বিচারপতি সুরেশ কুমার কাইত বলেন , এই তিনজনের বিরুদ্ধে এমন কোনও প্রমাণ নেই যা তারা হত্যার সঙ্গে যুক্ত। তাই তাদের জামিনে অবিলম্বের মুক্তির দেওয়ার নির্দেশ দেন। জানা গেছে দিল্লির পুলিশ এই মামলাটি করে বলেছিল, এই তিন মুসলিম উত্তর পূর্ব দিল্লির চাঁদ বাঘ এলাকার সাপ্তারশি ভবনের ছাদে উপস্থিত ছিল এবং অন্যদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের উপর পাথর ও গুলি ছুড়ছিল। তাদের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ করা হয়েছিল একই ছাদে থাকা শহিদ নামে এক ব্যক্তিকে তারাই গুলি করে হত্যা করেছিল।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগপত্রে সরকারি আইনজীবী রবিশ কুমারের প্রাইম টাইমে এনডিটিভির দেখানো একটি ভিডিও উদ্ধৃত করেছিল।

এরপরে আবেদনকারীদের পক্ষে আদালতেন জানানো হয় ওই তিন আসামিকে এনডিটিভির ভিডিওতে দেখা যায়নি,  যে ভিডিওটি আদালতে পেশ করেছিলেন সরকারি আইনজীবী। আবেদনকারীদের আইনজীবী সেলিম মালিক এনডিটিভির একটি ভিডিও চালু করে দেখান।

যে তিনজনের কথা বলা হয়েছিল ভিডিওতে তাদের মুখগুলি বড় করার পরে দেখা যায় তারা ওই অভিযুক্তরা নয়, তারা অন্য কেউ। এরপর বিচারপতি সুরেশ কুমার কাইত  দেখে বুঝতে পারেন, শট রেঞ্জে গুলির করার অভিযোগও ঠিক নয়, সেটি দূর থেকে চালানো হয়েছিল। বিচারপতি এনডিটিভি দেখানো ভিডিও আরও বিশ্লেষণ করে দেখেন গুলিটি আসলে সপ্তর্ষী ভবনের সামনের ভবনের মোহন নার্সিং হোমের ছাদ থেকে এসেছিল।

বুলেটটির ক্ষত দেখে স্পষ্ট করেই বলা যেতে পারে যে এটি নীচের দিকে ছিল। সুতরাং একটি উচ্চতা থেকে গুলি চালানো অবশ্যই হয়েছে।  যেহেতু মোহন নার্সিং হোমের বিল্ডিং গ্রেট বিয়ারের চেয়ে উঁচু ছিল, তবে বুলেটটি চলে যেতে পারে সেখান থেকে। আদালত তদন্তকারী সংস্থাগুলি দ্বারা চালিত গুলিগুলির স্বল্প পরিসীমা পরিসীমাটিকে কেবল অনুমান হিসাবে আখ্যায়িত করে এবং এর কোনও বৈজ্ঞানিক সত্যই পাওয়া যায়নি।

বিচারপতি কাইত আরও বলেছেন,  এনডিটিভির ভিডিওতে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে যে হেলমেট পরা ব্যক্তি বিগ ডিপার বিল্ডিং থেকে নয়, মোহন নার্সিং হোমের ছাদ থেকে গুলি চালাচ্ছেন। বেঞ্চ জানিয়েছে যে পুলিশ তাদের দৃষ্টি কেবল ভবনের একপাশে রেখেছিল এবং মোহন নার্সিং হোম থেকে ছিটানো গুলিটিকে উপেক্ষা করেছে।

আর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় কীভাবে আবেদনকারীরা নিজের সম্প্রদায়ের লোকদের হত্যা করবে তা বিশ্বাস করাও কঠিন বলে মন্তব্য করেন।

আদালত আরও উল্লেখ করেছে, যে সরকারি আইনজীবী মামলায় বলেছেন, মুসলিম অভিযুক্তরা হিন্দু সম্প্রদায়ের কিছু ব্যক্তিকে বিগ ডিপার বিল্ডিং থেকে বেরিয়ে গিয়ে তাদের জীবন বাঁচাতে বলেছে। যদিও তাদের আসল উদ্দেশ্য সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় অংশ নেওয়া। তাই প্রশ্ন ওঠে দাঙ্গার সময় অন্য ধর্মের লোকদের সত্যই চলে যেতে বলবেন?

আদালত আরও বলেছে যে বুলেট বিদ্ধ করে শহিদকে হত্যা করা মূল আক্রমণকারীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আবেদনকারীদের কাছ থেকে কোনও অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়নি।  আদালত নির্দেশ দেয় আবেদনকারীদের অবিলম্বে জামিনে মুক্তি দেওয়ার জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *