
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই নেতা ইমরান খানের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকে দেশটিতে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকরা তাঁর তালিবান গোষ্ঠীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং আফগানিস্তানে নারী অধিকার খর্ব করার বিষয়টিকে পুরস্কারের মর্যাদার সঙ্গে “বেমানান” বলে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া, ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলা নিয়ে সংশয়ও আলোচনায় যোগ করেছে।
ইমরান খান ২০২১ সালে তালিবানের কাবুল দখলকে “দাসত্বের শৃঙ্খল ভাঙা” বলে মন্তব্য করে বিতর্কিত হন। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁর নেতৃত্বে পাকিস্তান তালিবানকে সমর্থন দেয় এবং সাবেক আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘনিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ভূমিকা রাখে। পররাষ্ট্রনীতিতে তালিবান শাসকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ার পক্ষে তাঁর সওয়াল বারবার আলোচনায় এসেছে। তবে, আফগান নারীদের ওপর তালিবানের নিষ্পেষণকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো “নির্যাতন” আখ্যায়িত করায় ইমরানের ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতের পুলওয়ামায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ইমরান সরকারের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। যদিও তিনি এটা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেন, পরবর্তীতে তাঁর মন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী হামলাকে সরকারের “সাফল্য” বলে বর্ণনা করেন। এই দ্বৈত বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে সন্দেহের বাতাবরণ তৈরি করেছে।
রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে ইমরানের অন্তরীণ অবস্থানকে ঘিরে নিরাপত্তা চরম পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঈদ পরবর্তী সরকারবিরোধী বিক্ষোভের আভাস পেয়ে কর্তৃপক্ষ তিন দিনের জন্য বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা জারি করেছে। কারাগারে প্রবেশপথে ৮টি নিরাপত্তা স্তর, ২০০ কর্মকর্তা-কর্মী এবং রিজার্ভ ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ ইউনিটও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ইমরানের গ্রেপ্তারের পর পাকিস্তানের বিরোধী জোট জেইউআই-এফ (JUIF) নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আন্দোলন কে নেতৃত্ব দেবেন এবং কৌশল কী হবে— তা নিয়ে জোটের ভেতরে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইমরানের অনুপস্থিতিতে বিরোধী শিবিরের ঐক্য চ্যালেঞ্জের মুখে।

নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ইমরানের মনোনয়নকে অনেক নেটিজেন “অযৌক্তিক” আখ্যা দিয়েছেন। এক্স (টুইটার) প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন, “মানবাধিকার বিরোধী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা কি শান্তির প্রতীক হতে পারেন?” অনেকে পুরস্কারের মর্যাদা হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নোবেল মনোনয়ন ইমরানের সমর্থকদের মধ্যে সংহতি জোরালো করতে পারে। তবে, আন্তর্জাতিক মহলে তাঁর ভূমিকা নিয়ে চলমান সংশয় এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।