Saturday, September 5, 2026
30 C
Kolkata

উত্তরাখণ্ডে মুসলিম শাসকদের নাম মুছে ফেলার অভিযান বিজেপি ডবল ইঞ্জিন সরকারের

উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী গত সোমবার এক ঘোষণায় জানিয়েছেন যে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে থাকা ১৫টি স্থানের নাম বদলে ফেলা হবে। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্ত “জনগণের অনুভূতি, ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য”কে সম্মান জানানোর জন্য নেওয়া হয়েছে। হরিদ্বার, দেহরাদুন, নৈনিতাল এবং উধম সিং নগর জেলার এই স্থানগুলির বেশিরভাগই ঐতিহাসিকভাবে মুসলিম শাসকদের সঙ্গে যুক্ত ছিল, এবং এখন সেগুলির নাম পরিবর্তন করে হিন্দু বা ভারতীয় ধাঁচের নামকরণ করা হচ্ছে।

কী কী নাম বদলাচ্ছে?

  • হরিদ্বার জেলা:
  • আওরঙ্গজেবপুর এখন শিবাজী নগর।
  • গাজিওয়ালি পরিণত হয়েছে আর্য নগরে।
  • চাঁদপুরের নতুন নাম জ্যোতিবা ফুলে নগর।
  • মোহাম্মদপুর জাট এখন মোহনপুর জাট।
  • খানপুর কুরসলি হয়েছে অম্বেদকর নগর।
  • ইন্দ্রিশপুরের নাম বদলে নন্দপুর।
  • আকবরপুর ফাজলপুর এখন বিজয়নগর।
  • দেহরাদুন জেলা:
  • মিয়াঁওয়ালা এখন রামজি ওয়ালা।
  • পিরওয়ালা পরিণত হয়েছে কেশরী নগরে।
  • চাঁদপুর খুর্দের নতুন নাম পৃথ্বীরাজ নগর।
  • আবদুল্লাহ নগর এখন দক্ষ নগর।
  • নৈনিতাল জেলা:
  • নবাবী রোডের নাম বদলে অটল মার্গ।
  • পঞ্চাক্কি থেকে আইটিআই যাওয়ার রাস্তা এখন গুরু গোলওয়ালকর মার্গ।
  • উধম সিং নগর জেলা:
  • সুলতানপুর পট্টি পৌরসভা এখন কৌশল্যা পুরী। এর পিছনে কী উদ্দেশ্য?
    এই নাম পরিবর্তনের পেছনে হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের একটি বড় পরিকল্পনা কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে মুসলিম শাসকদের নাম মুছে ফেলার দাবি জানিয়ে আসছে। বিজেপি এবং তাদের সমর্থকরা বলছেন, এটি ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনার একটি পদক্ষেপ। কিন্তু এর সমালোচকদের মতে, এটি ইতিহাসকে বিকৃত করার এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে হীন করার একটি ষড়যন্ত্র।

এই পদক্ষেপকে অনেকে ভারতের সমৃদSG ইতিহাসের একটি অংশকে ইচ্ছাকৃতভাবে মুছে ফেলার চেষ্টা বলে দেখছেন। মুসলিম শাসকরা ভারতের সংস্কৃতি, স্থাপত্য ও ঐতিহ্যে যে অবদান রেখেছিলেন, তা অস্বীকার করে একটি হিন্দু-কেন্দ্রিক গল্প গড়ে তোলার প্রয়াস চলছে। ইতিহাসবিদ ও সমাজকর্মীরা এর তীব্র নিন্দা করেছেন। তাঁদের মতে, এটি শুধু ইতিহাসকে বিকৃতই করছে না, সমাজে বিভেদের বীজ বপনও করছে।

এটি কোনো নতুন ঘটনা নয়। বিজেপি শাসিত অন্যান্য রাজ্যেও এমন কাণ্ড ঘটেছে। উদাহরণস্বরূপ, উত্তরপ্রদেশে মুঘলসরাই রেলওয়ে স্টেশনের নাম বদলে দীনদয়াল উপাধ্যায় জংশন করা হয়েছে। এই ধরনের পদক্ষেপগুলো বিজেপির একটি পরিচিত কৌশল—তাদের ভোটব্যাঙ্ককে খুশি করতে এবং জনগণের দৃষ্টি অন্য গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য।

প্রশ্ন উঠছে জনমনে যে
এই নাম বদল সত্যিই কি ভারতীয় সংস্কৃতির জন্য, নাকি একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের অবদানকে অস্বীকার করার জন্য? আমরা কীভাবে নিজেদের একটি বৈচিত্র্যময় ও সহনশীল জাতি বলে দাবি করব, যখন আমাদের অতীতের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোকে জোর করে মুছে ফেলা হচ্ছে? এই উদ্যোগ কেবল একটি প্রতীকী পদক্ষেপ নয়, বরং একটি ভয়ঙ্কর প্রবণতা, যা ভারতের বৈচিত্র্য ও ইতিহাসের সম্পদকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

এটি আমাদের সবার জন্য একটি সতর্কবার্তা। আমাদের ইতিহাসের পূর্ণাঙ্গ চিত্রকে রক্ষা করতে হবে, সম্মান জানাতে হবে। নইলে, বিজেপির এই একতরফা গল্পের ফাঁদে পড়ে আমরা আমাদের অতীতের সত্যকে হারিয়ে ফেলব।

Hot this week

অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও ১ বছরে মিলেছে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান! সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

গুজরাটে সদর দপ্তর থাকা ৬ নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক...

ভূমধ্যসাগরে মাইক্রোঅ্যালগির দাপট! ইজরায়েলের অধিকাংশ ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট বন্ধ, জলসংকটের আশঙ্কা

ভূমধ্যসাগরে হঠাৎ করে বেড়ে ওঠা মাইক্রোঅ্যালগির কারণে বড়সড় সমস্যায়...

গাঁজা সেবনের অভিযোগে ফুকেত-দিল্লি ফ্লাইটের সেই পাইলটকে এবার বরখাস্ত করল এয়ার ইন্ডিয়া!

ফুকেত থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে বিপদের মুখে পড়া এয়ার...

Topics

অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও ১ বছরে মিলেছে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান! সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

গুজরাটে সদর দপ্তর থাকা ৬ নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক...

Related Articles

Popular Categories