SIR প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ উঠছে বহু মানুষের ভোট দেওয়ার অধিকার অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিরোধীদের দাবি, তথাকথিত ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ দেখিয়ে প্রায় ৬০ লক্ষ বৈধ ভোটারকে আপাতত বিচারাধীন তালিকায় রাখা হয়েছে। এর ফলে তাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে বলে আশঙ্কা বাড়ছে। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন।
এই ইস্যুতেই মঙ্গলবার নিউটাউনে যোগ্য মানুষদের ভোটাধিকার পাওয়ার দাবিতে একটি প্রতিবাদ সভায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। নির্বাচন কমিশনের কয়েকজন আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে নিজেদের বক্তব্য জানাতে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক এবং ছাত্রছাত্রীরা শান্তিপূর্ণভাবে হোটেলের বাইরে জমায়েত করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি চেয়ে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানান তাঁরা। তবে সেই অনুমতি না মেলায় পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের বচসা শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এতে এক অধ্যাপকসহ অন্তত ছয়জন ছাত্র রোজা রত অবস্থায় গুরুতরভাবে আহত হন। আহতদের দ্রুত কাছাকাছি একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আহত ছাত্রদের জল খাওয়ানোর চেষ্টা করানো হয়। কিন্তু, রোজা ভাঙতে নারাজ, আহত ছাত্ররা জল পান করতে অশিকার হয়।বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রনেতা জানান, গত প্রায় দশ দিন ধরে পড়ুয়া ও শিক্ষকরাও এই ইস্যুতে প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদের সামনে তাঁদের দাবি তুলে ধরার জন্যই ওই দিন তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু আলোচনার সুযোগ না দিয়ে পুলিশ শক্তি প্রয়োগ করেছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
ঘটনাটিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিরোধী শিবিরের নেতারা দাবি করেছেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ওপর এভাবে বলপ্রয়োগ গণতান্ত্রিক পরিবেশের পক্ষে ভালো নয়। তাঁদের বক্তব্য, ভোটার তালিকা থেকে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা নিয়ে স্বচ্ছ তদন্ত ও আলোচনা হওয়া জরুরি। পাশাপাশি যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বা বিচারাধীন রয়েছে, তাঁদের পুনরায় শুনানির সুযোগ দেওয়ার দাবিও উঠেছে।


