
গত মঙ্গলবার, ১৪ বছর বয়সী আরিশ নামে এক মুসলিম কিশোর ঈদের জন্য কেনাকাটা শেষ করে তার বাইকে করে বাড়ি ফিরছিল। পথে দুজন সাদা পোশাক পরা পুলিশ কর্মকর্তা তাকে থামিয়ে দেন। আরিশের দাবি, এই কর্মকর্তারা মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। তারা কোনো কারণ না দেখিয়ে তাকে আক্রমণ করে, মারধর শুরু করে। তার বাইকের চাবি কেড়ে নেওয়া হয়, হাতকড়া পরানো হয় এবং তাকে রামপুরা পুলিশ চৌকিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার উপর আরও নির্যাতন চালানো হয়।আরিশ জানিয়েছে, “আমি ঈদের কেনাকাটা করে বাইকে বাড়ি যাচ্ছিলাম। হঠাৎ পুলিশ আমাকে থামিয়ে মারতে শুরু করে। তারা আমার বাইকের চাবি নিয়ে নেয় এবং আমাকে চৌকিতে নিয়ে যায়।” সে আরও বলে, যখন পুলিশ তার মাথায় টুপি দেখে এবং জানতে পারে সে রোজা রেখেছে, তখন তারা তাকে বেল্ট দিয়ে আরও কঠিনভাবে প্রহার করতে থাকে। আরিশের ভাষায়, “আমি তাদের বললাম আমি রোজা রেখেছি, থামুন। কিন্তু তারা আমার কথা না শুনে উল্টো আরও বেশি মারতে থাকে।”অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে আরিশের পিঠে গভীর আঘাতের দাগ দেখা গেছে, যা এই নির্যাতনের ভয়াবহতার প্রমাণ বহন করে। তার পরিবার যখন চৌকিতে পৌঁছায়, তখন পুলিশ তাদের হুমকি দেয় যে আরিশকে জেলে পাঠানো হবে।
আরিশের বাবা আতিক এই ঘটনার পর কোতওয়ালি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন যে, তার ছেলের উপর বিনা কারণে পুলিশ নির্যাতন চালিয়েছে। অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তার নাম হলো বিজয় এবং মহেশ। আতিক এই ঘটনাকে তার ছেলের প্রতি অন্যায় আচরণ হিসেবে চিহ্নিত করে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
এই ঘটনা জনসমক্ষে আসার পর স্থানীয় কংগ্রেস নেতা মোহন খেদা এবং ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য সঞ্জয় আনুজা কোতওয়ালি থানায় গিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরেন। রুদ্রপুরের সার্কেল অফিসার (সিও) প্রশান্ত কুমার জানান, যদি কোনো নাবালকের উপর নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করা হবে। আতিকের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের প্রক্রিয়া শীঘ্রই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই ঘটনা একটি বিচ্ছিন্ন উদাহরণ হলেও, এটি উত্তরাখণ্ডে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি পুলিশের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় নেতাদের সম্পৃক্ততা এবং জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া থেকে বোঝা যায়, এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হচ্ছে। তবে, এটি কোনো বৃহত্তর প্রবণতার অংশ কিনা, তা নিশ্চিত করতে আরও তথ্যের প্রয়োজন।
রুদ্রপুরে পুলিশ কর্মকর্তা বিজয় এবং মহেশের বিরুদ্ধে আরিশের উপর নির্যাতনের অভিযোগ একটি গভীর উদ্বেগের বিষয়। এটি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নির্যাতনের একটি উদাহরণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। আরিশের শরীরে আঘাতের চিহ্ন এবং তার বাবা আতিকের অভিযোগ এই ঘটনার গুরুত্ব প্রমাণ করে। কর্তৃপক্ষ তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা ন্যায়বিচারের পথে একটি আশার আলো। তবে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানতে প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান, পুলিশের বক্তব্য এবং তদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আমরা আশা করি, কর্তৃপক্ষ দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে, যাতে আরিশ ও তার পরিবার ন্যায়বিচার পায়।