
মধ্য প্রদেশে হিন্দু ধর্মীয় উৎসব নবরাত্রির (৩০ মার্চ থেকে শুরু) প্রাক্কালে বিজেপি বিধায়ক রামেশ্বর শর্মার মাংসের দোকান বন্ধের দাবি রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। কংগ্রেস এটিকে “সমাজ বিভাজনের কৌশল” আখ্যা দিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবি তুলেছে। পাশাপাশি, সমালোচকরা প্রশ্ন তুলেছেন—”মুসলিমদের লক্ষ্য করে নতুন নীতি, কিন্তু হিন্দুদের বিরুদ্ধে কেন কোনো ব্যবস্থা নেই?”
বিজেপির যুক্তি: ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও ঐক্য
১. হিন্দু অনুভূতির সম্মান: রামেশ্বর শর্মা দাবি করেন, নবরাত্রিতে মাংস বিক্রয় হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “গঙ্গা-জমুনি সংস্কৃতির কথা বলা দলগুলি হিন্দু উৎসবের মর্যাদা দেবে না কেন?” তাঁর মতে, মুসলিমরা যদি হিন্দু পর্বের সম্মান দেখায়, তবে হিন্দুরাও ঈদের মতো উৎসবে তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে ।
২. দিল্লি মডেলের অনুসরণ: দিল্লিতে বিজেপি নেতাদের অনুরূপ দাবির পর মধ্য প্রদেশেও এই আবেদন জোরালো হয়েছে। মন্ত্রী রাকেশ সিংহের মতে, সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় রীতি মেনে চলা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির লক্ষ্যে জরুরি ।
কংগ্রেস নেতা ফিরোজ সিদ্দিকী ও আব্বাস হাফিজের যুক্তি—নবরাত্রির ৯ দিন দোকান বন্ধ হলে মাংস ব্যবসায়ীরা আর্থিক সংকটে পড়বেন। তাদের দাবি, সরকার যদি বন্ধ চায়, তবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক ।
কংগ্রেসের মতে, বিজেপি ধর্মীয় ইস্যু ব্যবহার করে ভোটারদের বিভ্রান্ত করছে। তারা প্রশ্ন তোলে—”রমজানে মদ বিক্রি বন্ধের দাবি বিজেপি করে না কেন?” ।

সমালোচকরা ইঙ্গিত করেন, সাম্প্রতিক কালে উত্তরপ্রদেশের সম্বল ও মিরাটে রাস্তায় নামাজ পড়া নিষিদ্ধ করার মতো কঠোর আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, যা মুসলিম সম্প্রদায়কে প্রভাবিত করে। অথচ হিন্দু ধর্মীয় কার্যক্রমে অনুরূপ বিধিনিষেধ নেই ।
কিছু বুদ্ধিজীবী বলেন, “গঙ্গা-যমুনা সংস্কৃতির নামে একপেশে নীতি গ্রহণ করা হচ্ছে। মাংসের দোকান বন্ধের চেয়ে মদের দোকান নিয়ন্ত্রণ করলেই সামাজিক শান্তি বেশি সুরক্ষিত হত” ।
এ বছর চৈত্র নবরাত্রি (৩০ মার্চ শুরু) এবং ঈদ-উল-ফিতর (৩১ মার্চ/১ এপ্রিল) প্রায় একই সময়ে পালিত হওয়ায় বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে ।
হিন্দু সংস্কৃতি বাঁচাও মঞ্চের মতো সংগঠনগুলি মাংস ও মদের দোকান বন্ধের দাবিতে প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্ক ধর্মীয় অনুভূতি ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জকে তুলে ধরেছে। যদিও বিজেপি একে “সাংস্কৃতিক সংরক্ষণ” বলে প্রচার করছে, বিরোধীরা এটিকে ধর্মের জিগির তুলে “নির্বাচনী কৌশল” হিসেবে দেখছে। আগামী দিনগুলিতে এই ইস্যুটি আরও উত্তাপ ছড়াতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।