মধ্যপ্রদেশে রবিবার সকালে ভারতীয় রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল এক মারাত্মক ঘটনা। সিঙ্গরৌলি ও জবলপুর রেলপথে চলন্ত অবস্থাতেই কাপলিং ব্যবস্থা বিকল হয়ে ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনটি দুটি অংশে বিভক্ত হয়ে যায়। ভাগ্যের সহায়তায় ট্রেনের গতিবেগ কম থাকায় বড় ধরনের বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনাস্থলে ট্রেনের ইঞ্জিন ও কয়েকটি বগি হঠাৎ করেই পেছনের অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সেকেন্ডের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যাত্রীদের মধ্যে। তবে আশ্চর্যজনকভাবে এই বিভক্তির পরেও, বগিগুলো নিজস্ব গতিতে প্রায় ১ কিলোমিটার এগিয়ে যায় রেললাইনে। রেলওয়ে স্টাফ দ্রুত ব্যবস্থা নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

গবেষণায় উঠে এসেছে, কাপলিং মেকানিজমের ত্রুটিই এই বিচ্ছিন্নতার মূল কারণ। বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন, রেলের পুরনো যন্ত্রাংশ ও রক্ষণাবেক্ষণের অবহেলা বারবার বিপদের মুখে ফেলছে যাত্রীদের। যদিও রেল কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনার তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তবুও এই ঘটনা ফের স্মরণ করিয়ে দিল ভারতীয় রেলের নিরাপত্তা সংস্কারের জরুরি প্রয়োজনীয়তা।
বিচ্ছিন্নতার মুহূর্তে ট্রেনের ভেতরে থাকা এক যাত্রী জানান, “হঠাৎ প্রচুর শব্দ শুনে ধারণা করলাম কিছু একটা বিস্ফোরণ হয়েছে। পরে বুঝতে পারি ট্রেন দুই টুকরো হয়েছে।” স্থানীয় রেল কর্মীরা দাবি করেছেন, গতি কম থাকায় বগিগুলো লাইনচ্যুত হয়নি এবং ঐ সময় দুর্ঘটনাগ্রস্থ বগির পিছনে ওই রেল ট্রাকে কোনও ট্রেন না থাকায় বড়সড় দূর্ঘটনা এড়ানো গেছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রেলপথে যাত্রীসুরক্ষা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। যাত্রী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে, রেলওয়ে পরিকাঠামো আধুনিকীকরণ ও নিয়মিত নিরাপত্তা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে। প্রশ্ন উঠেছে—কতদিন আর ভাগ্যের উপর নির্ভর করে প্রাণ বাঁচাবে রেলের যাত্রীরা?