মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি ব্লকে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভোটার তালিকায় নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানাল সিপিআই (এম) জলঙ্গি ব্লক কমিটি। সোমবার দলীয় নেতৃত্ব ও কর্মীরা জলঙ্গি ব্লক অফিসে গিয়ে বিডিও-র হাতে একটি স্মারকলিপি তুলে দেন।
বাম নেতৃত্বের দাবি, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যে সংশোধিত খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে বহু ভোটারের নামের পাশে “বিচরাধীন” বলে একটি স্ট্যাম্প দেওয়া হয়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, জলঙ্গি ব্লকে প্রায় ১১ হাজার ভোটারের নামের পাশে এই চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। দলের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই ভোটারদের নথিপত্র ঠিকভাবে যাচাই করা হয়নি। ফলে প্রকৃত ও বৈধ ভোটাররাও সমস্যার মুখে পড়ছেন।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যেসব মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে তাদের অনেকেই আগে থেকে কোনও নোটিস পাননি। এমনকি বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের তরফে যথাযথ অনুসন্ধানও করা হয়নি বলে অভিযোগ। বাম নেতাদের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে বহু মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
এই ঘটনার প্রতিবাদেই সোমবার ব্লক অফিসে গিয়ে ডেপুটেশন দেন সিপিআই (এম)-এর নেতা-কর্মীরা। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত সমস্যার সমাধান করার দাবি জানান। বাম নেতৃত্বের তরফে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তোলা হয়েছে। প্রথমত, যেসব ভোটারের নাম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সেগুলি আবার নতুন করে খতিয়ে দেখা হোক। দ্বিতীয়ত, যাদের নাম বাদ পড়েছে তাদের পরিচয় যাচাই করে দ্রুত তালিকায় ফের অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এছাড়া এই সমস্যার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে পুনর্বিবেচনারও আবেদন জানানো হয়েছে।
সিপিআই (এম) জলঙ্গি ব্লক কমিটির কনভেনর আবু বক্কার বলেন, বিপুল সংখ্যক বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়া বা সন্দেহের তালিকায় চলে যাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভোটাধিকার মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার। তাই প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ করে এই সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। এদিনের ডেপুটেশনে উপস্থিত ছিলেন সিপিআই (এম)-এর জেলা কমিটির সম্পাদক জামির মোল্লা, প্রাক্তন বাম বিধায়ক ইউনুস সরকার, জেলা বাম যুব সংগঠনের নেতা ইমরান হোসেন-সহ জেলা ও ব্লকের একাধিক নেতা এবং কর্মী-সমর্থকরা।


