
ইসরাইল গাজা উপত্যকায় ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে, যাতে অন্তত ৩৩০ জন নিহত হয়েছেন। গত জানুয়ারিতে যুদ্ধ বিরতির শান্তিচুক্তি কার্যকর হওয়ার পর এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ আক্রমণ। রমজানের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ধ্বংস করে এই হামলা ১৭ মাসের যুদ্ধের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা বাড়িয়েছে, যা ইতিমধ্যে হাজারো ফিলিস্তিনির প্রাণ কেড়েছে এবং গাজাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে।
কেন এই হামলা?
প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানান, শান্তিচুক্তি বাড়ানোর আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় তিনি এই হামলার নির্দেশ দেন। ইসরাইলি কর্মকর্তাদের মতে, এই অভিযান অনির্দিষ্টকালের জন্য চলতে পারে এবং সামরিক তীব্রতা বৃদ্ধি পাবে। হামাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তারা বন্দী মুক্তির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস ইসরাইলের এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছে।
হামাস নেতা ইজ্জাত আল-রিশেক এই হামলাকে ইসরাইলি বন্দীদের জন্য “মৃত্যুদণ্ড” বলে অভিহিত করেন। গাজা সিটির শাতি শরণার্থী শিবিরে হামাস-নিয়ন্ত্রিত একটি কারাগারে হামলায় কয়েক ডজন বন্দী ও পুলিশ নিহত হয়েছেন। স্থানীয় হাসপাতালে লাশের সারি বেড়ে চলেছে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী গাজার পূর্বাঞ্চলের বাসিন্দাদের কেন্দ্রের দিকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, যা স্থল অভিযানের ইঙ্গিত দেয়। পাশাপাশি, হামাস-নিয়ন্ত্রিত শিক্ষা মন্ত্রণালয় গাজার ৭০টি স্কুল আবার বন্ধ ঘোষণা করেছে, যেগুলো যুদ্ধবিরতির সময় পুনরায় চালু হয়েছিল। এসব স্কুল বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
ইউনিসেফের (জাতিপুঞ্জ) কর্মী রোজালিয়া বোলেনের বর্ননা অনুযায়ী, মধ্যরাতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল গাজা। শিবিরগুলোতে হামলার ফলে বহু পরিবার আবারও বাস্তুহারা হয়েছে। তার মতে, “কয়েক ডজন শিশু ইতিমধ্যে প্রাণ হারিয়েছে।”
ইসরাইলি বন্দীদের পরিবারের সংগঠন হোস্টেজেস ফ্যামিলিজ ফোরাম সরকারের এই সিদ্ধান্তকে “বন্দীদের জীবন বিপন্ন করা” বলে নিন্দা জানিয়েছে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর মিত্র বেজালেল স্মোত্রিচ যুদ্ধ পুনরারম্ভকে স্বাগত জানিয়েছেন, যিনি পূর্বে হামাস ধ্বংস না করা পর্যন্ত সরকার ছাড়ার হুমকি দিয়েছিলেন।
এই সংকটে জাতিসংঘ শান্তি প্রচেষ্টা জোরদারের আহ্বান জানালেও বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। গাজার সাধারণ জনগণের মানবিক সহায়তা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে, বিশেষত বিদ্যুৎ ও চিকিৎসা সরবরাহ বন্ধ হওয়ায়। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ইসরাইলের বিরুদ্ধে চাপ বৃদ্ধির দাবি উঠছে।

এই হামলায় শান্তিচুক্তি পুরোপুরি ভেঙে পড়লে গাজায় নতুন করে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠতে পারে, যা ইতিমধ্যে বিপর্যস্ত ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য আরও মারাত্মক ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।