দিল্লির উত্তম নগরে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ও এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে নতুন আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের সঙ্গে যুক্ত দুইটি বাড়ি ভাঙার সিদ্ধান্তের ওপর আপাতত স্থগিতাদেশ দিল দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত দিল্লির মিউনিসিপাল কর্পোরেশনকে নির্দেশ দিয়েছে, পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত আর কোনও ভাঙচুরের পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না।
এই মামলার শুনানি করেন বিচারপতি অমিত ভানসাল। অভিযুক্ত ইমরানের মা জারিনা এবং আরেক মহিলা শাহনাজ আদালতের দ্বারস্থ হন। তাদের দাবি, কোনও পূর্ব নোটিস বা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই তাদের বাড়ি ভাঙার চেষ্টা করা হচ্ছে। আদালত আপাতত বর্তমান অবস্থা বজায় রাখতে নির্দেশ দিয়েছে এবং পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত প্রশাসনকে অপেক্ষা করতে বলেছে।
আবেদনে জানানো হয়েছে, উত্তম নগরের জে জে কলোনিতে প্রায় চার দশক ধরে ওই পরিবার বসবাস করছে। বাড়ির বিদ্যুৎ বিল ও অন্যান্য পৌর কর নিয়মিত দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত হয় ৫ মার্চ দুই প্রতিবেশী পরিবারের মধ্যে একটি বচসা থেকে। অভিযোগ, বাচ্চাদের খেলা নিয়ে শুরু হওয়া তর্ক পরে হাতাহাতিতে গড়ায়। এই ঘটনায় ভারতীয় দণ্ডবিধির পরিবর্তে নতুন আইনি কাঠামো ভারতীয় নয়া সনহিতার অধীনে মামলা দায়ের করে পুলিশ।
আবেদনকারীদের বক্তব্য, ব্যক্তিগত বিরোধের ঘটনাকে কিছু মানুষ ইচ্ছাকৃত ভাবে সাম্প্রদায়িক রঙ দেওয়ার চেষ্টা করেছে। অভিযোগ, ৭ মার্চ এলাকায় একটি বড় ভিড় জড়ো হয় এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময় অভিযুক্ত পরিবারের বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করা হয়েছে। এরপর ৮ মার্চ পৌর কর্তৃপক্ষ বুলডোজার দিয়ে অভিযুক্ত পরিবারের একটি বাড়ির অংশ ভেঙে দেয়। অভিযোগ, কোনও আগাম নোটিস বা শুনানির সুযোগ না দিয়েই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পেছনে রয়েছে ২৬ বছরের তরুণ তরুণ ভুতোকিয়ার মৃত্যু। হোলির সময় দুই পরিবারের মধ্যে ঝগড়া চলাকালীন মারামারিতে তিনি গুরুতর জখম হন এবং পরে মারা যান। পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের প্রতিবেশী বিরোধ থেকেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত এবং এতে কোনও সাম্প্রদায়িক দিক নেই।
তবে ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায় এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবাদও দেখা যায়। এদিকে মানবাধিকার কর্মীরা প্রশ্ন তুলেছেন, আদালতের নির্দেশ ছাড়া বাড়ি ভাঙার মতো পদক্ষেপ নেওয়া ঠিক কি না। তাদের মতে, ২০২৪ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী কোনও নির্মাণ ভাঙার আগে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া মানা জরুরি। এখন আদালতের পরবর্তী শুনানির দিকেই নজর রয়েছে।

