উত্তরপ্রদেশের মুজফ্ফরনগর জেলায় ইমামের উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রমজান মাসের মধ্যেই ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৮ বছর বয়সী মুফতি আব্দুল ওয়াহাব। তিনি এলাকার একটি মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে সিভিল লাইন্স থানার অধীন সারওয়াত এলাকায়। ওই দিন তিনি নামাজের উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলেন অথবা নামাজ পড়ে ফিরছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সেই সময়ই কয়েকজন যুবক তার পথ আটকে দাঁড়ায় এবং কথা কাটাকাটির পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, রাস্তার পাশে মোটরসাইকেল থামিয়ে কয়েকজন যুবকের সঙ্গে কথা বলছেন ওয়াহাব। প্রথমে কথাবার্তা চললেও কিছুক্ষণের মধ্যেই তা তর্কে পরিণত হয়। একসময় উত্তেজনার মধ্যে তিনি একজনকে ধাক্কা দিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। তখন এক যুবক ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে তার উপর আঘাত করতে এগিয়ে আসে।
পাশের একটি দোকানের মালিক দ্রুত এগিয়ে এসে ব্যাটটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ততক্ষণে কয়েকজন মিলে ওয়াহাবকে ঘিরে ফেলে। আত্মরক্ষার জন্য তিনি একটি ধাতব চেয়ার হাতে তুলে নেন। তবুও হামলাকারীরা তাকে মারধর করতে থাকে। ধস্তাধস্তির মধ্যে তার টুপি পড়ে যায় এবং মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে।
পরিবারের অভিযোগ, হামলাকারীরা প্রথমে তার নাম জানতে চায় এবং অশালীন মন্তব্য করে। এরপর লাঠি ও ব্যাট দিয়ে তাকে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে প্রয়োজন হলে অন্যত্র স্থানান্তরের কথাও ভাবা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এই ঘটনায় পুলিশ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। অভিযুক্তদের নাম হরিশ, লাভি, বসন্ত, ঋষভ এবং আদিত্য। তাদের মধ্যে লাভি নামে এক যুবককে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। ঘটনার পর বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন দ্রুত তদন্ত ও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুরো ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে।


