মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইজরায়েল ও আমেরিকার সংঘাত ক্রমেই তীব্র আকার নিচ্ছে। মোজতবা খামেনেই সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার পর থেকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ইজরায়েল ও আমেরিকার সামরিক স্থাপনাগুলির বিরুদ্ধে আরও বেশি আক্রমণ শুরু করেছে। পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তবে মঙ্গলবার ইরান জানায়, এশিয়া ও ইউরোপের যেসব দেশ এই যুদ্ধের বিরোধিতা করেছে, তাদের পতাকাবাহী জাহাজকে ওই পথ দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।
সোমবার থেকে মঙ্গলবারের মধ্যে ইরান একাধিক জায়গায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইজরায়েলের তেল আভিভ, পশ্চিম জেরুজালেম এবং হাইফা শহরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এছাড়া বাহরাইনের রাজধানী মানামা, সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর শিল্প এলাকা রুওয়াইস এবং সৌদি আরবের একটি তেল শোধনাগারও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। ইরানের দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া পাল্টা আক্রমণে আমেরিকা ও ইজরায়েলের প্রায় অর্ধেক রাডার ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার সকালে পশ্চিম জেরুজালেমে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। টানা ১১ দিনের মতো এদিনও তেল আভিভে বিস্ফোরণের শব্দে মানুষের ঘুম ভেঙে যায়। শহরের কাছে অবস্থিত বনেই বারাক নামের একটি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাইফার রামাত ডেভিড বিমানবন্দরেও আঘাত হানে ইরানের ড্রোন ও মিসাইল। এতে কয়েকটি আধুনিক রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে বাহরাইনের মানামায় একটি আবাসিক ভবন ধসে পড়ায় একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আটজন আহত হয়েছেন। সৌদি আরবের তেলসমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চল এবং কুয়েতের কয়েকটি এলাকাতেও একই ধরনের হামলার খবর পাওয়া গেছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর রুওয়াইস অঞ্চলের কয়েকটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় আঘাত লাগায় সেখানে বড় আগুন লাগে।
অন্যদিকে তেহরানের শহরতলিতে মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলায় প্রায় ৪০ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে। মার্কিন সেনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত দশ দিনে তারা ইরানের প্রায় ৫০টি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করেছে। তবুও হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলা কিছু পণ্যবাহী ও জ্বালানিবাহী জাহাজের উপর ইরান হামলা চালিয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই সংঘাতে ইতিমধ্যে আটজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। ইজরায়েলে মৃতের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ভাইও রয়েছেন বলে খবর। পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে যুদ্ধ বন্ধের দাবি জোরালো হচ্ছে।


