বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হতেই সংসদে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র বিতর্ক দেখা দেয়। ইরানকে ঘিরে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের প্রভাব ভারতেও পড়তে পারে—এই আশঙ্কা তুলে বিষয়টি নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা করার দাবি জানায় বিরোধী দলগুলি। তবে কেন্দ্রীয় সরকার এই বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করতে রাজি না হওয়ায় লোকসভা ও রাজ্যসভা উভয় কক্ষেই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।
সোমবার অধিবেশন শুরু হওয়ার পর থেকেই বিরোধী সাংসদরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চেয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় কয়েক দফায় অধিবেশন স্থগিত করতে বাধ্য হন স্পিকার। পরে প্রায় দুপুর ১২টা নাগাদ বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর লোকসভায় পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি দেন। তিনি জানান, ১ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির বৈঠকে এই সংঘাতের আন্তর্জাতিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
জয়শঙ্কর বলেন, ওই বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং ভারতের অর্থনীতির সম্ভাব্য প্রভাবের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি পর্যালোচনা করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিভিন্ন মন্ত্রককে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, একই দিনে ইরানের তিনটি জাহাজকে ভারতীয় বন্দরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি জাহাজ ‘আইআরআইএস লাভান’ বর্তমানে কেরালার কোচি বন্দরে রয়েছে।
তবে শ্রীলঙ্কার কাছে ভারত মহাসাগরে ৪ মার্চ ইরানের একটি নিরস্ত্র জাহাজের উপর মার্কিন হামলার প্রসঙ্গে বিদেশমন্ত্রী কোনও সরাসরি মন্তব্য করেননি। এ নিয়ে বিরোধীরা সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানালেও তাঁর কাছ থেকে বিস্তারিত উত্তর পাওয়া যায়নি। বিরোধীদের বিক্ষোভের ফলে সংসদের কাজ বারবার ব্যাহত হয় এবং শেষ পর্যন্ত লোকসভা ও রাজ্যসভার অধিবেশন সারা দিনের জন্য স্থগিত করে দেওয়া হয়। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এই বিষয়টি নিয়ে সংসদে পৃথক আলোচনা করার পরিকল্পনা আপাতত নেই।


