কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকায় অবস্থিত ইসলামিয়া মেডিক্যাল ইন্সটিটিউটকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন পরিকল্পনা। বহু বছরের পুরনো এই চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের ভবন ভেঙে সেখানে আধুনিক সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রোগীদের আরও উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইসলামিয়া মেডিক্যাল ইন্সটিটিউটের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বিশিষ্ট ব্যক্তি স্যার হাসান সোহরাওয়ার্দীর নাম। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলিম উপাচার্য ছিলেন। ১৯৪৫ সালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। শিক্ষাক্ষেত্রের পাশাপাশি তিনি তৎকালীন পূর্ব ভারতীয় রেলেও স্বাস্থ্য আধিকারিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সময় রেলওয়ের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নত করতে অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা চালু করার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। ইংল্যান্ডে ইস্ট লন্ডন মসজিদ নির্মাণেও তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল। ব্যক্তিগত জীবনে এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল তাঁকে। তাঁর একমাত্র ছেলে হাসান মাসুদ সোহরাওয়ার্দী মাত্র ১৭ বছর বয়সে যক্ষ্মা রোগে মারা যান। ছেলের স্মৃতিকে অমর করে রাখতে এবং মানুষের চিকিৎসা পরিষেবার জন্য ১৯৩৭ সালে তিনি পার্ক সার্কাসের সেভেন পয়েন্ট এলাকায় একটি যক্ষ্মা-বিরোধী ক্লিনিক চালু করেন। সেই ক্লিনিক থেকেই পরবর্তীতে ইসলামিয়া মেডিক্যাল ইন্সটিটিউটের বিকাশ ঘটে। এখনও এই প্রতিষ্ঠানের দেওয়ালে সেই ইতিহাসের স্মারক হিসেবে একটি ফলক রয়েছে।
এবার সেই পুরনো ভবন সম্পূর্ণ ভেঙে সেখানে আটতলা একটি নতুন ভবন তৈরি করা হবে। প্রায় ১৫ কাঠা জমির উপর গড়ে উঠবে এই আধুনিক হাসপাতাল। ভবনের নীচে গাড়ি রাখার জন্য আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও থাকবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরনো ভবন ভাঙতে প্রায় দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে। এরপর শুরু হবে নতুন হাসপাতাল তৈরির কাজ, যা শেষ হতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে।
হাসপাতালের পরিচালন সমিতির সদস্যরা সম্প্রতি এই নতুন প্রকল্প নিয়ে বৈঠক করেছেন। হাসপাতালের কর্মকর্তা আমিরউদ্দিন ববি জানিয়েছেন, চিকিৎসা পরিষেবার পরিধি বাড়ানোর জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন ভবন তৈরি হলে সেখানে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি বসানো হবে এবং আরও বেশি রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, স্যার হাসান সোহরাওয়ার্দী এবং তাঁর পুত্র হাসান মাসুদ সোহরাওয়ার্দীর স্মৃতিকে সম্মান জানাতে নতুন ভবনেও স্মারক ফলক ও অন্যান্য উদ্যোগ রাখা হবে।
পুরনো ভবন ভাঙার পর আপাতত হাসপাতালের ইনডোর ও আউটডোর পরিষেবাগুলি সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের ইসলামিয়া হাসপাতালে স্থানান্তর করা হবে। সেখানে ইতিমধ্যেই মেডিসিন, সার্জারি, চক্ষু, ইউরোলজি, ডার্মাটোলজি এবং ইএনটি-সহ বিভিন্ন বিভাগে চিকিৎসা চলছে। হাসপাতাল সূত্রে দাবি, নতুন প্রকল্প সম্পূর্ণ হলে ইসলামিয়া হাসপাতাল আরও আধুনিক ও বৃহৎ চিকিৎসা কেন্দ্রে পরিণত হবে এবং কলকাতার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলের মানুষও এর সুবিধা পাবেন।


