দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে ভোটার তালিকা প্রকাশকে ঘিরে এক বিএলও-র বাড়িতে হামলার অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর থেকে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন ওই বিএলও ও তার পরিবারের সদস্যরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্ত ব্যক্তির নাম মণীন্দ্রনাথ দাস। তিনি কাকদ্বীপের পশ্চিম গোবিন্দপুর এলাকার বাসিন্দা এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ৮৫ নম্বর বুথের দায়িত্বপ্রাপ্ত বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) হিসেবে কাজ করেন। পাশাপাশি তিনি পেশায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
জানা গিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর ওই বুথের বহু মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এর ফলে এলাকার কিছু মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। অভিযোগ, সেই ঘটনাকেই কেন্দ্র করে সোমবার গভীর রাতে একদল দুষ্কৃতী মণীন্দ্রনাথ দাসের বাড়ির সামনে এসে হামলা চালায়। বাড়ির দিকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও এই ঘটনায় কেউ আহত হননি, তবে আচমকা হামলার ঘটনায় পরিবারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
মণীন্দ্রনাথ দাস জানিয়েছেন, ভোটার তালিকা প্রকাশের পর থেকেই তিনি মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন। কারণ, তার দায়িত্বে থাকা বুথে মোট ১৬৩ জন ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ গেছে। এছাড়াও আরও ২৭ জনের নাম এখনও বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে অনেকেই তার কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অভিযোগ, কয়েকদিন ধরেই তাকে ফোন করে বিভিন্নভাবে প্রশ্ন করা হচ্ছিল এবং চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। সোমবার রাতেও কিছু লোক ফোন করে নাম বাদ যাওয়ার কারণ জানতে চান। তখন তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং এই সিদ্ধান্তে তার ব্যক্তিগত কোনও ভূমিকা নেই। কিন্তু তার কিছুক্ষণ পরই বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছেন তিনি।
এই ঘটনার পর মণীন্দ্রনাথ দাস প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। তিনি কাকদ্বীপের বিডিও-র কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। পাশাপাশি স্থানীয় থানাতেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এলাকার পরিস্থিতি নজরে রাখা হচ্ছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই ঘটনার জেরে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।


