মালদহ জেলার মোথাবাড়ি থানার উত্তর লক্ষ্মীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাগিচাপুর গ্রামে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। হায়দরাবাদে কাজ করতে গিয়ে মারা গিয়েছেন গ্রামের বাসিন্দা মাইমুল সেখ (৪৫)। মঙ্গলবার তার মৃতদেহ কফিনবন্দি অবস্থায় গ্রামে পৌঁছতেই পরিবারের পাশাপাশি এলাকাবাসীর মধ্যেও নেমে আসে গভীর শোক।
পরিবারের সদস্যদের কথায়, দীর্ঘদিন ধরেই জীবিকার টানে ভিনরাজ্যে শ্রমিকের কাজ করতেন মাইমুল। সংসারের আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় প্রায় এক মাস আগে আবারও কাজের খোঁজে হায়দরাবাদে পাড়ি দেন তিনি। সেখানে একটি নির্মাণকাজে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। কিন্তু রবিবার আচমকাই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। সহকর্মীরা তাকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আগেই তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের কাছে খবর পৌঁছায়।
এই দুঃসংবাদ গ্রামে পৌঁছতেই শোকের ছায়া নেমে আসে বাগিচাপুর এলাকায়। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেননি। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় মঙ্গলবার মাইমুলের মৃতদেহ কফিনে করে গ্রামে নিয়ে আসা হয়। শেষবারের মতো তাকে দেখতে গ্রামবাসীর ভিড় জমে যায় বাড়ির সামনে।
মাইমুল সেখের মা জানান, সংসারের অভাব মেটাতে ছেলে দূরে কাজে গিয়েছিল। কিন্তু এমনভাবে তাকে হারাতে হবে, তা কখনও ভাবেননি। এখন ছেলের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে মাইমুলের বড় ভাই নাইরুদ্দিন সেখ বলেন, পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়েই মাইমুল বাইরে কাজ করতে গিয়েছিল। হঠাৎ তার মৃত্যুর খবর শুনে গোটা পরিবার ভেঙে পড়েছে। এখন পরিবারের অবস্থা খুবই কঠিন।
গ্রামবাসীরাও এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। পরিবারের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষার বিষয়টি নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে এলাকায়।


