
ওয়াকফ সংশোধন বিল পাস হওয়ায় উত্তর প্রদেশের প্রায় 98% ওয়াকফ সম্পত্তি এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এই সম্পত্তিগুলির মধ্যে বেশিরভাগই রাজস্ব রেকর্ডে নথিভুক্ত নয়। নতুন আইনের ফলে এই সম্পত্তিগুলির ওপর নিয়ন্ত্রণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ওয়াকফ বোর্ডের হাত থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের হাতে চলে যাচ্ছে। এছাড়া, ওয়াকফ বোর্ডের দাবি করা 57,792টি সরকারি সম্পত্তি এখন তার এখতিয়ারের বাইরে চলে যাবে, যা এই বোর্ডের ক্ষমতাকে ব্যাপকভাবে হ্রাস করবে।
স্বাধীনতার পর থেকে উত্তর প্রদেশে ওয়াকফ সম্পত্তির ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসছে। রাজ্যের সংখ্যালঘু কল্যাণ বিভাগের একটি গোপন প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, স্কুল, হাসপাতাল ও কমিউনিটি সেন্টারের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি জমিও ভুলভাবে ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে। রামপুর ও হারদোই জেলায় ব্যক্তিগত জমির মালিকরা জানতে পেরেছেন যে তাদের সম্পত্তি ভুল করে ওয়াকফ সম্পদ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এই ভুল নিবন্ধনের জেরে দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াই ও মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধ চলছে।

নতুন আইন অনুযায়ী, ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে যে কোনো বিরোধ এখন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা বিচার করবেন। তারা 1952 সালের কৃষি বছরের রাজস্ব রেকর্ডের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবেন। এই সংশোধন বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে থাকা 57,792টি সরকারি সম্পত্তিকে প্রভাবিত করবে, যার মোট আয়তন 11,712 একর। আইনি বিধান অনুযায়ী, এই সম্পত্তিগুলো কখনোই ওয়াকফ সম্পদ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার কথা ছিল না। আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এগুলো ওয়াকফের এখতিয়ার থেকে বাদ পড়বে এবং স্থানীয় প্রশাসন রাজ্যের নিয়ম মেনে এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে দখল নেবে।
সমালোচকদের মতে, ওয়াকফ বোর্ডের অবাধ ক্ষমতার কারণে ধর্মীয় অনুদানের নামে সরকারি জমির ব্যাপক অপব্যবহার হয়েছে। এই সংশোধিত আইনের মাধ্যমে সরকার এই জমিগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনতে চায় এবং ভবিষ্যতে বিরোধ এড়াতে পদক্ষেপ নিচ্ছে।

অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের (এআইএমপিএলবি) সদস্য মাওলানা খালিদ রশিদ ফিরঙ্গি মহালি এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেন, “বিলটি রাজ্যসভায় পাস হলে আমরা আদালতে এর বিরুদ্ধে লড়ব। আমাদের অবস্থান সাংবিধানিকভাবে সঠিক, তাই আমরা ন্যায়বিচার পাব বলে আশা করছি।” তিনি নীতীশ কুমারের জনতা দল (ইউনাইটেড) এবং চন্দ্রবাবু নাইডুর তেলেগু দেশম পার্টির মতো রাজনৈতিক দলগুলোর বিরোধিতার অভাবে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি আরও বলেন, “সব দল যদি এই বিলের বিরুদ্ধে কঠিন ও গবেষণাভিত্তিক অবস্থান নিত, তাহলে ভালো হতো।”
রাজ্যসভায় বিলটি পাস হলে এটি একটি বড় আইনি লড়াইয়ের পথ প্রশস্ত করবে। এআইএমপিএলবি ইতিমধ্যে আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই বিষয়টি নিয়ে আগামী দিনে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশোধনের সাংবিধানিক বৈধতা এবং এর সামাজিক-ধর্মীয় প্রভাব নিয়ে উভয় পক্ষ তর্ক-বিতর্কে জড়াবে।