পশ্চিম মেদিনীপুর ও হুগলি জেলায় আলু চাষিদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে। বাজারে আলুর দাম এতটাই কম যে অনেক কৃষক উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না। ফলে ঋণের বোঝা বেড়ে যাচ্ছে, আর সেই চাপ সামলাতে না পেরে আত্মহত্যা করলো গ্রাম বাংলার আরও একটি কৃষক।
চন্দ্রকোণার ২৮ বছর বয়সী এক যুবক এবছর ধার করে আলু চাষ করেছিলেন। জমি লিজে নিয়ে এবং নিজের সামান্য সঞ্চয় দিয়ে চাষ শুরু করেন তিনি। কিন্তু ফলন তোলার সময় দেখা যায়, বাজারে প্রতি কুইন্টাল আলুর দাম খুবই কম। বিক্রির জন্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বললেও আশানুরূপ দাম পাওয়া যায়নি। পাওনা টাকা মেটানো তো দূরের কথা, নতুন করে ধার শোধ দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মহাজনি ঋণসহ বিভিন্ন জায়গায় তাঁর বড় অঙ্কের দেনা ছিল।
গত কয়েক মাস ধরে রাজ্যের বিভিন্ন বাজারে আলুর দাম স্থিতিশীল নয়। কোথাও কোথাও ব্যবসায়ীরা মাঠ থেকে আলু কিনতেই আসছেন না। ফলে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে ফসল মাঠেই রেখে দিচ্ছেন। কেউ আবার হিমঘরে সংরক্ষণ করছেন, তবে সেখানেও খরচ রয়েছে। সংরক্ষণ খরচ যোগ হলে লাভের পরিবর্তে লোকসান আরও বাড়ছে। কৃষকদের অভিযোগ, চাষের সময় সার, বীজ ও শ্রমের খরচ অনেক বেড়েছে, কিন্তু বিক্রির সময় তার অর্ধেক দামও মিলছে না। পরিবারের সদস্যরা জানান, ওই যুবক খুব পরিশ্রমী ছিলেন। দিনমজুরি করেও সংসার চালাতেন। নিজের এবং ভাড়ায় নেওয়া জমিতে আলু চাষ করেছিলেন। ভালো ফলনের আশায় একশোর বেশি বস্তা কেনেন তিনি। কিন্তু বাজারদর কমে যাওয়ায় সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়। শেষ কয়েক দিনে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে প্রতিবেশীরা জানান।
ঘটনার সকালে পরিবারের লোকজন তাঁকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে বাঁচাতে পারেননি। এই ঘটনার পর এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বৃদ্ধ মা ও স্ত্রী কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। প্রতিবেশীরাও এই পরিস্থিতিতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
হুগলির পুরশুড়া এলাকাতেও একই অবস্থা। অনেক কৃষক জানিয়েছেন, আলু তুলে রাখার পরও কেনার লোক নেই। কেউ কেউ খড় চাপা দিয়ে মাঠে ফসল রেখে দিয়েছেন। কৃষকদের দাবি, উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য না পেলে এমন সংকট চলতেই থাকবে। তাঁরা দ্রুত বাজারে স্থিতি ও উপযুক্ত দামের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

