মহারাষ্ট্রের পুনে শহর থেকে প্রকাশ্যে আসা একটি ভিডিও ঘিরে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। প্রায় ২৫ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক মুসলিম যুবককে ঘিরে ধরে একদল মানুষ তাকে মারধর ও অপমান করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে পুনের একটি এলাকায়, যেখানে একটি গাড়িতে গবাদি পশু নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
ভিডিওতে দেখা যায়, ওই যুবককে একটি গাড়ির পাশে দাঁড় করিয়ে কয়েকজন তাকে প্রশ্ন করতে থাকে। অভিযোগ, সেই সময় তাকে বারবার থাপ্পড় মারা হয় এবং কটু মন্তব্য করা হয়। এমনকি তাকে জোর করে গরুর গোবর খাওয়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ভিডিওতে শোনা যায়, ভয়ে কাঁপতে থাকা যুবকটি বারবার তাদের কাছে ক্ষমা চাইছে এবং তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছে কিন্তু তাতেও মারধর থামেনি বলে জানা গিয়েছে।
অভিযুক্তদের দাবি, ওই যুবক নাকি সামাজিক মাধ্যমে হিন্দুদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর পোস্ট করেছিলেন এবং একটি মন্দিরের কাছে মুরগির দোকান চালাতেন। সেই কারণেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল বলে তারা দাবি করেছে। তবে অনেকেই মনে করছেন, এই ঘটনায় ধর্মীয় উত্তেজনার প্রভাব স্পষ্ট এবং একজন সংখ্যালঘু যুবককে প্রকাশ্যে অপমান করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই ঘটনায় এক অভিযুক্ত বিপাশা মানিকমের বিরুদ্ধে এর আগেও অভিযোগ উঠেছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে পুনের আম্বেগাঁও বুদরুক এলাকায় একটি মুসলিম মালিকানাধীন বিরিয়ানি রেস্তোরাঁয় গিয়ে তিনি ও তার সমর্থকেরা দোকান বন্ধ করার দাবি তোলেন বলে অভিযোগ। তখন কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং আগুন লাগিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
নতুন করে ভাইরাল হওয়া এই ভিডিও সামনে আসার পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। সমাজকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ দ্রুত পুলিশি তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের দাবি জানিয়েছেন। অনেকেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘটনাটি সত্য প্রমাণিত হলে মারধর, ভয় দেখানো এবং সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর মতো একাধিক ধারায় মামলা হতে পারে। যদিও এখনও পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রেপ্তার বা বিস্তারিত সরকারি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তাই দ্রুত পদক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি আরও জোরালো হচ্ছে নানান মহলে।


