ওড়িশার রাজনীতিতে দেখা গেল এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। প্রাক্তন বালেশ্বর লোকসভা সাংসদ এবং বিজু জনতা দল (বিজেডি)-র নেতা রবীন্দ্র কুমার জেনা বুধবার আনুষ্ঠানিক ভাবে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-তে যোগ দেন। ভুবনেশ্বরে বিজেপির রাজ্য দফতরে তিনি তার সমর্থকদের নিয়ে দলে নাম লেখান। দলীয় নেতারা সেখানে উপস্থিত থেকে তাকে স্বাগত জানান।
দলে যোগ দেওয়ার পর জেনা বলেন, দেশের পাশাপাশি ওড়িশার উন্নয়নের জন্য বিজেপিই সবচেয়ে শক্তিশালী এবং সক্ষম দল। বিজেপির ওড়িশার শাখার সভাপতি মনমোহন সামলসহ দলের একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, জেনা বিজেপিতে যোগ দেন এমন এক সময়ে, যখন তার বিরুদ্ধে একটি মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। সিবিআই ওড়িশার সিশোর চিটফান্ড কেলেঙ্কারির ঘটনায় তার নাম উল্লেখ করে চার্জশিট দাখিল করেছে। এই মামলার শুনানি ১২ মার্চ আদালতে হওয়ার কথা।
এর একদিন আগে, অর্থাৎ মঙ্গলবার তিনি বিজেডির প্রাথমিক সদস্যপদ ছেড়ে দেন। দলের প্রধান নবীন পট্টনায়কের কাছে পাঠানো চিঠিতে তিনি ব্যক্তিগত কারণের কথা উল্লেখ করে পদত্যাগের কথা জানান।
২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেডির টিকিটে লড়ে জেনা বালেশ্বর আসন থেকে জয়ী হয়েছিলেন। তবে ২০১৯ সালে সেই আসনে বিজেপির প্রতাপ সারঙ্গীর কাছে তিনি পরাজিত হন। পরে ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে তাকে আর দলীয় প্রার্থী করা হয়নি।
অন্যদিকে, ২০২৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তার স্ত্রী সুবাসিনী জেনা, যিনি আগে থেকেই বস্তা এলাকার বিধায়ক ছিলেন, আবারও প্রার্থী হন। তিনি কংগ্রেস প্রার্থী বিজন নায়ককে প্রায় ২০ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়ে জয়ী হন।
রবীন্দ্র জেনার সঙ্গে বালেশ্বর জেলার বেশ কয়েকজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিও বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। এর মধ্যে বস্তা ও বালেশ্বর ব্লকের দুই চেয়ারপার্সন এবং জেলার ছয়জন জেলা পরিষদ সদস্যও রয়েছেন।
জেনা বলেন, তিনি নবীন পট্টনায়ককে সবসময় সম্মান করেন। তবে তাঁর মতে, কোনো আঞ্চলিক দল টিকে থাকতে হলে নতুন প্রজন্মের নেতাদের সামনে নিয়ে আসা দরকার। এই বিষয়টি তিনি আগেও দলের নেতৃত্বকে জানিয়েছিলেন, কিন্তু তাতে কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।


