ইরানে সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইজরায়েলি সামরিক হামলার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানালেন দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট নাগরিকরা। তাঁদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে এগোতে পারে। এর প্রভাব শুধু ওই অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বিশ্বের নানা দেশও সরাসরি বা পরোক্ষভাবে এর ক্ষতির মুখে পড়বে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর সবচেয়ে বড় বোঝা বইতে হবে সাধারণ মানুষকে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলির দুর্ভোগের শেষ থাকবে না।
এই পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানাতে সোমবার কলকাতার শিয়ালদহ স্টেশনের কাছে এক নাগরিক সভার আয়োজন করা হয়। সভার ডাক দেয় সারা ভারত শান্তি ও সংহতি সংস্থা (এআইপিএসও)-র পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি। অনুষ্ঠানের শুরুতে ইরান ও পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন সংঘাতে নিহত মানুষের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক এই সংকটের সময়ে ভারত সরকারের অবস্থান যথেষ্ট স্পষ্ট নয়। তাঁদের বক্তব্য, ইরানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও এই হামলার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি নিন্দা শোনা যায়নি।
সমাবেশে উপস্থিত বক্তাদের দাবি, ভারতকে নিজের স্বার্থ রক্ষার জন্য স্বাধীন ও দৃঢ় বিদেশনীতি গ্রহণ করতে হবে। তাঁদের মতে, আমেরিকা ও ইজরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া দরকার। বক্তারা আরও বলেন, অন্য কোনও দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার অধিকার কারও নেই।
গণআন্দোলনের নেতা ডাঃ সূর্য মিশ্র তাঁর বক্তব্যে বলেন, ইরান ছাড়াও গাজা, সিরিয়া, ইরাক এবং লেবাননের মতো বহু অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলছে। তাঁর মতে, এইসব ঘটনায় বড় শক্তিগুলির আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সংঘাতের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়ছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি তার একটি উদাহরণ, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সভায় অঞ্জন বেয়া প্রস্তাব পেশ করেন এবং ডাঃ অনুপ রায়, বাসুদেব ভট্টাচার্য ও মনোজ ভট্টাচার্যসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক সুদীপ্ত ব্যানার্জি, সমর চক্রবর্তী, কুণাল বাগচী, প্রবীর দেব, অম্বিকেশ মহাপাত্র এবং কাজী কামাল নাসেরসহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি। সমাবেশের শেষপর্যন্ত বক্তারা একমত হন যে, বিশ্বশান্তি ও মানবিকতার স্বার্থে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত দ্রুত বন্ধ হওয়া জরুরি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সমস্যায় শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজে বের করার আহ্বানও জানানো হয়।


