
উত্তরপ্রদেশের মিরাটে ঈদের নামাজকে কেন্দ্র করে পুলিশ কড়া বিধিনিষেধ জারি করেছে। কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে যে, রাস্তায় নামাজ পড়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, এবং যারা এই নিয়ম লঙ্ঘন করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এমনকি অপরাধীদের পাসপোর্ট বাতিল এবং লাইসেন্স রদ করার মতো কঠিন শাস্তির হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
ঈদের উৎসব, যা আগামী ৩১ মার্চ বা ১লা এপ্রিল পালিত হতে পারে, তার আগেই এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। মিরাটের সিটি পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্ট আয়ুষ বিক্রম সিং মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে শান্তিপূর্ণ উৎসব পালনের আবেদন জানিয়েছেন। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন যে, নামাজিরা রাস্তার পরিবর্তে স্থানীয় মসজিদে বা নির্ধারিত সময়ে ঈদগাহে গিয়ে প্রার্থনা সম্পন্ন করুন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, “কোনো পরিস্থিতিতেই রাস্তায় নামাজ পড়া মেনে নেওয়া হবে না।”
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যারা রাস্তায় নামাজ পড়তে গিয়ে ধরা পড়বে, তাদের পাসপোর্ট জব্দ করা হতে পারে এবং লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে। এছাড়া ভবিষ্যতে পাসপোর্ট বা লাইসেন্সের জন্য ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (এনওসি) পেতেও সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। এই নিয়ম পালন করা হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা, ড্রোন এবং স্থানীয় গোয়েন্দা তথ্যের সাহায্য নেওয়া হবে।
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকে এই কঠোর নির্দেশের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। রাষ্ট্রীয় লোকদলের (আরএলডি) প্রধান ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এই পদক্ষেপকে “অরওয়েলিয়ান ১৯৮৪-এর মতো পুলিশি শাসন” বলে সমালোচনা করেছেন। জেলার সিনিয়র পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্ট (এসএসপি) বিপিন টাডা সতর্ক করে বলেছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়ালে বা অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। তিনি জানিয়েছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সোশ্যাল মিডিয়ার উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

গত বছর ঈদের সময় রাস্তায় নামাজ পড়ার অভিযোগে প্রায় ২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার পুলিশ আরও কঠোরভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে। একইভাবে, উত্তরপ্রদেশের সাম্ভাল জেলায়ও রাস্তায় এবং বাড়ির ছাদে সম্মিলিত নামাজ পড়তে নিষেধ করা হয়েছে। সাম্ভালের পুলিশ সুপার কৃষ্ণ কুমার বিশ্নোই জানিয়েছেন, বাড়িতে ব্যক্তিগতভাবে নামাজ পড়া যাবে, তবে কোনো অশান্তি সৃষ্টি না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।
এই নির্দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নেতা ও সমাজকর্মীরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। আজাদ সমাজ পার্টির সাংসদ চন্দ্র শেখর আজাদ পুলিশের এই পদক্ষেপকে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, “পুলিশের পাসপোর্ট বাতিল করার ক্ষমতা নেই। উত্তরপ্রদেশে মুসলিমদের শীঘ্রই শ্বাস নেওয়ার জন্যও অনুমতি নিতে হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, নামাজ মাত্র ১০ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত প্রার্থনা, এবং এর জন্য এত বিধিনিষেধ আরোপ করা অযৌক্তিক।
এই ঘটনা ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং জনসাধারণের স্থানে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পুলিশের দাবি, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অশান্তি এড়াতে এই পদক্ষেপ জরুরি। কিন্তু অনেকের মতে, এটি মানুষের ধর্ম পালনের মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করছে।
এই পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের জন্য কর্তৃপক্ষ ও মুসলীম সম্প্রদায়ের মধ্যে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে, যাতে উৎসবের আনন্দ অক্ষুণ্ন থাকে এবং কোনো পক্ষের অধিকার ক্ষুণ্ন না হয়।