তামিলনাড়ুর মাদুরাইয়ের সরকারি রাজাজি হাসপাতালে রবিবার সকাল থেকেই চরম উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়। বিচারাধীন অবস্থায় থাকা ২৬ বছরের এক দলিত যুবক আকাশ ডেলিসনের মৃত্যুকে ঘিরে হাসপাতালে ও তার এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পরিবার-পরিজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা হাসপাতালে জড়ো হন এবং মৃত্যুর সঠিক তদন্তের দাবি জানান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আকাশ ডেলিসন শিবগঙ্গা জেলার মানামাদুরাই এলাকার কৃষ্ণপুরম কলোনির বাসিন্দা। তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেছিলেন। গত ৬ মার্চ আকাশকে তার সহযোগী গুনা (২৩)-র সঙ্গে গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযোগ, তার আগের দিন জিয়ন নগর এলাকায় দুই ব্যক্তির উপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয়েছিল। সিসিটিভি ক্যামেরায় সেই ঘটনার ফুটেজ ধরা পড়ে। একটি ছোটখাটো বিবাদ থেকেই এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ।
তামিলনাড়ু পুলিশের দাবি, আকাশের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক মামলা ছিল। তার মধ্যে খুনের চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে। গ্রেফতারের সময় আকাশ নাকি পুলিশের হাত থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিল। সেই সময় একটি সেতু থেকে পড়ে গিয়ে তার পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে বলে পুলিশের দাবি।
এরপর প্রথমে তাকে শিবগঙ্গা সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে আদালত তাকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত বিচারাধীন হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়। সেই অনুযায়ী ৭ মার্চ তাকে মাদুরাইয়ের সরকারি রাজাজি হাসপাতালের কয়েদি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।
রবিবার ভোরে হঠাৎ আকাশের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা দ্রুত চিকিৎসা শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পুলিশের মতে, তার পায়ে গুরুতর চোট ও হাড় ভাঙার কারণে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে না বলেও জানানো হয়েছে।
তবে আকাশের পরিবারের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তার বাবা রাজেশ কান্নান অভিযোগ করেছেন, মানামাদুরাই থানার পুলিশ তার ছেলেকে মারধর করেছে। তিনি বলেন, আকাশকে একটি নির্জন জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে তার পায়ের উপর পাথর চাপিয়ে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। মারধরের সময় জাতিগত কটূক্তিও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ পরিবারের।
আকাশের মা আনন্দীও পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, আগেই পুলিশ তাদের ছেলেকে ধরে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিল। এই ঘটনার প্রতিবাদে পরিবার দেহ গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে। তারা চাইছেন, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং রাজনৈতিক নেতা থোল থিরুমাভালাভনের হস্তক্ষেপ করা হোক।
এই মৃত্যুকে ঘিরে মানামাদুরাই এলাকাতেও বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। স্থানীয় মানুষ রাস্তা অবরোধ করে প্রতিবাদ জানান এবং দোষীদের শাস্তির দাবি তোলেন। বিরোধী দল এআইএডিএমকে-ও ঘটনাটির তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, পুলিশ সত্য গোপন করার চেষ্টা করছে।
মানবাধিকার কর্মী হেনরি টিফাগনে জানিয়েছেন, রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে এটি আরেকটি বিচারাধীন মৃত্যুর ঘটনা। তিনি মাদ্রাজ হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনে ময়নাতদন্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে আকাশের দেহ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে ম্যাজিস্ট্রেট তদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং পরিবারের সঙ্গে আলোচনাও চলছে।


