রাজ্যের ভোটার তালিকা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন রাজ্যের সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রকাশ করার পর দেখা গেছে, বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বা যাচাইয়ের অপেক্ষায় রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গণসংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা প্রতিবাদে সরব হয়েছেন।
জানা গেছে, রাজ্যজুড়ে চলা ‘সার’ নামের যাচাই প্রক্রিয়ার পর প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৫৮ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এরপর আরও প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি বহু মানুষের নাম এখনও ‘বিচারাধীন’ অবস্থায় রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা।
এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে সোমবার কলকাতায় রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দফতরের সামনে ধরনা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ‘সংবিধান বাঁচাও—বাংলা বাঁচাও মঞ্চ’-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি ও মানবাধিকার কর্মীরা অংশ নেন। পরে তারা নির্বাচন দফতরে একটি স্মারকলিপিও জমা দেন।
ধরনা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামি হিন্দের রাজ্য সভাপতি ডা. মসিহর রহমান, মানবাধিকার সংগঠন বন্দি মুক্তি কমিটির কর্মী ছোটন দাসসহ আরও কয়েকটি সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। বক্তারা অভিযোগ করেন, এই যাচাই প্রক্রিয়ার ফলে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে বড়সড় সংকট তৈরি হয়েছে।
ডা. মসিহর রহমান বলেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, অনেক ক্ষেত্রে জীবিত মানুষের নামও তালিকা থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই প্রক্রিয়ায় বিশেষ করে সংখ্যালঘু, মতুয়া, দলিত ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের নাম বেশি করে বাদ পড়ছে বলে অভিযোগ উঠছে।
মানবাধিকার কর্মী ছোটন দাসও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়েছে বলেও তিনি জানান।
ধরনা কর্মসূচি থেকে আন্দোলনকারীরা কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। তাঁদের মতে, ভোটার তালিকায় থাকা নামগুলি যাচাই করার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে। যাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বা বিচারাধীন রাখা হয়েছে, তাঁদের স্পষ্টভাবে কারণ জানাতে হবে। পাশাপাশি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ভোটারদের নাম পুনরায় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করারও দাবি তোলা হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের দাবি, রাজ্যের বহু গরিব মানুষ, পরিযায়ী শ্রমিক, মহিলা এবং প্রান্তিক সম্প্রদায়ের মানুষ এই সমস্যার মুখে পড়েছেন। তাই নির্বাচন কমিশনের উচিত দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে এই বিভ্রান্তি দূর করা এবং নাগরিকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা। স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর সংগঠনগুলির প্রতিনিধিরা জানান, যতদিন না প্রত্যেক বৈধ নাগরিকের ভোটাধিকার নিশ্চিত হচ্ছে, ততদিন গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।


