রাজ্যের সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকদের একাধিক দাবিকে সামনে রেখে আজ রাজ্যজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। মূলত বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) পরিশোধ এবং দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে থাকা সরকারি পদে নিয়োগের দাবিতেই এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ধর্মঘটকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ধর্মঘটের মোকাবিলায় রাজ্য সরকারও কড়া অবস্থান নিয়েছে। নবান্নের তরফে স্পষ্ট নির্দেশ জারি করে বলা হয়েছে, আজ সমস্ত সরকারি দপ্তর, আদালত এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে এবং স্বাভাবিক নিয়মেই কাজ চলবে। কর্মীদের কোনো ধরনের ছুটি মঞ্জুর করা হবে না বলেও জানানো হয়েছে।
রাজ্যের অর্থ দপ্তরের নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, কেউ যদি এদিন কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকেন, তবে সেই দিনটিকে ‘ডায়েস নন’ হিসেবে ধরা হবে। অর্থাৎ ওই দিনের জন্য কোনো বেতন দেওয়া হবে না। পাশাপাশি নিয়ম ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর কাছে শোকজ নোটিশ পাঠানো হতে পারে এবং প্রয়োজন হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
শিক্ষা ক্ষেত্রেও একই ধরনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মধ্যশিক্ষা পর্ষদ এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ জানিয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত শিক্ষক বা পরীক্ষকরা ধর্মঘটে অংশ নিতে পারবেন না। পরীক্ষার কাজ যাতে কোনোভাবে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তবে কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে এই নিয়মে কিছুটা ছাড় রাখা হয়েছে। যেমন—১২ মার্চের আগে কেউ হাসপাতালে ভর্তি থাকলে, পরিবারের কারও মৃত্যু হলে, গুরুতর অসুস্থতা থাকলে বা আগে থেকেই অনুমোদিত প্রসূতি ছুটি ও শিশু যত্নকালীন ছুটি থাকলে সেই ক্ষেত্রে অনুপস্থিতিকে ভিন্নভাবে বিবেচনা করা হবে।
এদিকে সরকারি কড়া নির্দেশিকাকে তীব্র সমালোচনা করেছেন আন্দোলনকারীরা। যৌথ মঞ্চের নেতাদের দাবি, সরকার কর্মচারীদের ভয় দেখিয়ে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করছে। মঞ্চের কনভেনার ভাস্কর ঘোষ জানিয়েছেন, সরকারের চাপ সত্ত্বেও ধর্মঘট সফল করতে কর্মীরা প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের অসুবিধা এড়াতে এদিন কোনো রাস্তা অবরোধ বা যান চলাচল বন্ধ করার মতো কর্মসূচি নেওয়া হবে না। হাসপাতাল ও জরুরি পরিষেবাকেও ধর্মঘটের বাইরে রাখা হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের মতে, এটি শুধু মহার্ঘ ভাতার প্রশ্ন নয়। তাদের দাবি, কর্মচারীদের মর্যাদা এবং অধিকার রক্ষার লড়াই হিসেবেই এই আন্দোলন চলছে। বকেয়া ডিএ মেটানো, প্রায় ছয় লক্ষ শূন্যপদে দ্রুত ও স্বচ্ছ নিয়োগ এবং অস্থায়ী কর্মীদের স্থায়ী করার মতো দাবিগুলিই এই আন্দোলনের মূল কেন্দ্রবিন্দু।


