নিউজ ডেস্ক : রাজ্যে ভোট পরবর্তী পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক হিংসা নিয়ে শাসক দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বহু বুদ্ধিজীবী। নিজের দলের নেতাদের রাজনৈতিক গুন্ডা বানিয়েছেন বলেও অনেকে আক্রমণ করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এবার সেই রকম অভিযোগ শোনা গেল ভারতের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি জাস্টিস মার্কন্ডেয় কাটজুর গলায়। তিনি এক ফেসবুক পোস্টে আজ বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গে এখন একটা গুন্ডা বাহিনী তৈরি করেছেন ঠিক নাৎসি বাহিনীর ধাঁচে, যাদের কাজ মানুষকে রাজনৈতিক বৈষম্যের কারণে মারধর করা, তাদের বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দেওয়া। এমনকি সিবিআই অফিসে কিছুদিন আগে মুখ্যমন্ত্রীর আচরণের কারণে তাকে স্বৈরাচারী বলেও কটাক্ষ করেছেন তিনি।
জাস্টিস কাটজু আজ এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, আমি একবার কলকাতায় মমতা বন্দোপাধ্যায়ের এক রাজনৈতিক জনসভায় যোগ দিয়েছিলাম। তখন কিছু বাস ভর্তি হয়ে মানুষ ওই সভায় যোগ দিতে আসছিল। তারা সব গুন্ডার দল, তাদেরকে নিয়ে আসা হচ্ছিল এটা দেখানোর জন্য যে জনসভায় ব্যাপক জনসমাগম হয়েছে। এখন ভোটে ব্যাপক জয় লাভের পর মমতার বিরুদ্ধে মারধরের ভয়ে কেউ আর মুখ খুলতে পারে না। সত্যি বলতে কি, তৃণমূলের জয়ের খবরের সঙ্গে সঙ্গেই তৃণমূল নেতাদের গুন্ডামির খবর আসতে থাকে, যারা সাধারন মানুষকে মারধর এবং তাদের দোকানপাট জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়। মমতা নিজেই একটা গুন্ডা, এটা সাম্প্রতিক সময়ে স্টিং অপারেশনে ঘুষ নেওয়ার সময় ধরা পড়া তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতারের পর সিবিআই অফিসে গিয়ে তার আচরণে বোঝা যায়। মমতার এমন ব্যবহারের লম্বা ইতিহাস আছে। তিনি নাৎসি বাহিনীর ধাঁচে একটা বাহিনী গড়ে তুলেছেন যারা তাদের বিরোধীদের মারধর করে সন্ত্রস্ত করে তোলে। অমিত মিত্র, ডেরেক ও ব্রায়ান,মুকুল রায়, সুব্রত মুখার্জী, পার্থ চ্যাটার্জি, মহুয়া মৈত্র এরা কখনো এই সব ব্যাপারে কথা বলবেন না। আমি বিজেপির সমর্থক নই আর না মমতার সমর্থক, যিনি একটা বুদ্ধিহীন বাকপটু স্বৈরাচারী, যিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অম্বিকাস মহাপত্রকে গ্রেফতার করেছিলেন তার বিরুদ্ধে কার্টুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে শেয়ার করার জন্য।
জাস্টিস কাটজু সাধারণ মোদি সরকার বিরোধী শিবিরের একটা আওয়াজ হিসেবেই পরিচিত। তবে তিনি মাঝে মাঝেই সমালোচনা করে থাকেন কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি, তৃণমূলের মতো রাজনৈতিক দলগুলোর ও। উল্লেখ্য, বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তিনি পূর্বাভাস দিয়েছিলেন বিজেপির জয়ের। কিন্তু তার পূর্বাভাস ভুল প্রমাণিত হয়েছে। তবে তারপর থেকে তিনি এই ব্যাপারে কিছু বলেননি। এবার রাজ্যের ভিতরে ও বাইরে বহু বুদ্ধিজীবী যখন রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি লিখেছেন রাজ্যের ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে তখন তিনিও যোগ দিলেন সেই দলে।