
২০১৭ সালের এক ফোন রেকর্ডিং কে কেন্দ্র করে, তৃণমূলের অস্বস্তি যেন কাটতেই চাইছে না। সিবিআই, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে, সুজয় কৃষ্ণ ভদ্র, শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়, এবং কুন্তল ঘোষকে দায়ী করেছে। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে কি ভাবে টাকা তোলা হবে তা নিয়ে মিটিং হয় এই তিনজনের মধ্যে। সেই অডিও ক্লিপে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রকে বলতে শোনা যায়, নিয়োগ দুর্নীতির জন্য ১৫ কোটি টাকা দাবি করেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই কণ্ঠস্বর এর নমুনা পরীক্ষা করে তৃতীয় কম্প্লিমেন্টারি চার্জশিট আদালতকে পেশ করে সিবিআই।
যদিও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী, সঞ্জয় বসু দাবি করেছে, এই ঘটনা সম্পূর্ণরূপে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সিবিআই এর চার্জশিটে শুধুমাত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ রয়েছে, নেই কোন পরিচয়। এ থেকে কোনভাবেই প্রমাণ করা যায় না, চার্জশিটের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই, আদতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

আজ নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে, তৃণমূলের রাজ্য সম্মেলনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সিবিআইকে তীক্ষ্ণ আক্রমণ করেন, “আমাকে সিবিআই এর আগেও ডেকেছিল। আমি সহযোগিতা করেছিলাম। নব জোয়ারের যাত্রা বন্ধ করে গেছিলাম। ১০ ঘন্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।” তিনি এও বলেন, “আপনি কি (সিবিআই) ভাবছেন, ধমকে চমকে দমিয়ে রাখবেন? আমি অন্য ধাতুতে তৈরি। আপনি (সিবিআই) যত আঘাত করবেন, মানুষের কাছে গিয়ে মাথা নত করে সমর্থন চাইবো।”
এর আগে, এক সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র ওরফে কালীঘাটের কাকু বলেছিলেন, আমাকে না মেরে আমার মনিবের কাছে কেউ পৌঁছাতে পারবে না। তিনি নিজেকে ‘লিপ্স এন্ড বাউন্স’ এর নিছক কর্মচারী বলে দাবি করেন। আর এই প্রতিষ্ঠানের মালিকের পরিচয় এতদিনে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সকল মানুষ জেনে গিয়েছে। কাজেই এই সূত্র ধরে কি বিরোধীরা দুইয়ে দুইয়ে চার করছে? নানান মহলে এখন একটাই প্রশ্ন, চার্জশিটে উল্লিখিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসল পরিচয় কি?