
শ্রীনগর, জম্মু ও কাশ্মীর: গত সোমবার শ্রীনগরের ঐতিহাসিক জামিয়া মসজিদ এবং ঈদগাহে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ে মুসল্লিদের প্রবেশে বাধা দিতে কর্তৃপক্ষ এই দুটি স্থান তালাবদ্ধ করে দেয়। কাশ্মীরের প্রধান ধর্মীয় নেতা এবং হুরিয়াত কনফারেন্সের চেয়ারম্যান মিরওয়াইজ উমর ফারুক, যিনি এই নামাজের ইমামতি করার কথা ছিল, তাকেও গৃহবন্দী করে রাখা হয়।
জামিয়া মসজিদে ঈদের নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞার এই ঘটনা নতুন নয়। এর কয়েক দিন আগেই শবে কদর এবং জুম্মাতুল বিদার নামাজের জন্যও এই মসজিদটি তালাবদ্ধ করা হয়েছিল। ২০১৯ সাল থেকে শুরু করে প্রতি বছরই ঈদের নামাজের সময় এই মসজিদে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
মিরওয়াইজ উমর ফারুক সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ একটি ভিডিও বার্তাসহ তাঁর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন,
“আমি গভীরভাবে মর্মাহত এবং কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। তারা কাশ্মীরের মুসলমানদের ঈদগাহ এবং জামিয়া মসজিদে ঈদের নামাজ পড়ার মৌলিক অধিকার থেকে বারবার বঞ্চিত করছে। এই স্থানগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং আমাকে বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছে।”
তিনি আরও প্রশ্ন তুলেছেন:
“১৯৯০-এর দশকে উগ্রবাদের সবচেয়ে তীব্র সময়েও ঈদগাহে ঈদের নামাজ পড়া হতো। কিন্তু এখন, যখন কর্তৃপক্ষ প্রতিদিন ‘স্বাভাবিক পরিস্থিতি’ ফিরে এসেছে বলে দাবি করে, তখন কেন মুসলমানদের তাদের ধর্মীয় স্থান থেকে দূরে রাখা হচ্ছে?”

“এর পেছনে কী উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে? কাশ্মীরি মুসলমানদের সমষ্টিগত পরিচয় কি শাসকদের কাছে হুমকি স্বরুপ?”
তিনি অভিযোগ করেন,
“ঈদগাহ এবং জামিয়া মসজিদ জনগণের সম্পত্তি। ঈদের দিনেও তাদের এই পবিত্র স্থানগুলো থেকে বঞ্চিত করা কাশ্মীরে বর্তমানে চলমান নিপীড়নমূলক ও কর্তৃত্ববাদী নীতিরই প্রতিচ্ছবি।”
ওয়াকফ বোর্ডের বক্তব্য অনুযায়ী এর আগে, জম্মু ও কাশ্মীর ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারপার্সন এবং বিজেপি নেত্রী দারাখশান আন্দ্রাবি রবিবার জানিয়েছিলেন,
“চলমান নির্মাণ কাজের কারণে এবার ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে না।”
তিনি আরও বলেন,
“সবচেয়ে বড় জমায়েত হবে হজরতবাল মাজারে। ওয়াকফ বোর্ড লাইন বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে সেখানে সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।”
এই ঘটনা কাশ্মীরের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির জটিলতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। একদিকে কর্তৃপক্ষ নির্মাণ কাজের কারণ দেখিয়ে এই সিদ্ধান্তকে ন্যায়সঙ্গত করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে ধর্মীয় নেতারা এটিকে মুসলমানদের অধিকার হরণের প্রয়াস হিসেবে দেখছেন। জামিয়া মসজিদ ও ঈদগাহের মতো ঐতিহাসিক স্থানগুলো বন্ধ থাকায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।