উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে এক পুরকর্মীর সততা ও মানবিকতার ঘটনা স্থানীয় মানুষের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে। নিজের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি যে কাজটি করেছেন, তা এখন এলাকায় প্রশংসার বিষয় হয়ে উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বসিরহাট পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে। পুরসভার সাফাই কর্মী দাউদ শেখ প্রতিদিনের মতো শনিবার সকালে বিভিন্ন বাড়ি থেকে আবর্জনা সংগ্রহ করছিলেন। সেই সময় তাপসী বিশ্বাস নামে এক গৃহবধূর বাড়ি থেকেও তিনি ডাস্টবিনের ময়লা নিয়ে যান। কিন্তু ওই গৃহবধূ না বুঝেই ঘরের বর্জ্যের সঙ্গে একটি ছোট পুঁটুলি ফেলে দেন, যার ভিতরে ছিল প্রায় তিন ভরি সোনার গয়না।
কিছুক্ষণ পরে বাড়িতে গয়না খুঁজতে গিয়ে তাপসী বিশ্বাস বুঝতে পারেন যে ভুল করে তা ডাস্টবিনে চলে গেছে। এতে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। অন্যদিকে, দাউদ শেখ সংগ্রহ করা আবর্জনা নিয়ে বসিরহাটের মাতৃসদন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে পৌঁছান। সেখানে ময়লা খালি করার সময় কর্মীদের চোখে পড়ে একটি পুঁটুলি। সেটি খুলে দেখতেই ভেতরে সোনার অলংকার দেখতে পান তারা।
দাউদ শেখ সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে গয়নাগুলি নিরাপদে রাখেন এবং পুরসভার কর্তৃপক্ষকে জানান। এদিকে তাপসী বিশ্বাসের পরিবারও অনুমান করেন যে গয়নাগুলি হয়তো ভুল করে ময়লার সঙ্গে চলে গেছে। পরে তারা পুরসভার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।এরপর পুরকর্মী দাউদ শেখ ও প্রশাসনের উদ্যোগে প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করার চেষ্টা শুরু হয়। তাপসী বিশ্বাস নিজের পরিচয় এবং গয়নার সঠিক বর্ণনা দিতে পারলে গয়নাগুলি তাঁর হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। হারিয়ে যাওয়া গয়না ফিরে পেয়ে তাপসী বিশ্বাস আবেগে ভেসে যান। তিনি জানান, আর কখনও গয়নাগুলি ফিরে পাবেন বলে আশা করেননি। দাউদ শেখের সততা ও দায়িত্ববোধে তিনি কৃতজ্ঞ।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বসিরহাটের বাসিন্দারা দাউদ শেখের প্রশংসায় মুখর। সমাজকে পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি তিনি যে সততার উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন, তা অনেকের কাছে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।


