রবিবার রাত অর্থাৎ ৮ই মার্চ রাজ্যে পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গেই তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়তে হল নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চকে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে কমিশনের প্রতিনিধিরা কলকাতায় আসতেই দমদম বিমানবন্দর থেকে ভিআইপি রোডের কৈখালি পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদে সরব হন বহু মানুষ। কালো পতাকা ও বিভিন্ন দাবি লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন সিপিএমের বিভিন্ন সংগঠনের কর্মী–সমর্থকেরা।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম এখনও ‘বিচারাধীন’ তালিকায় রয়েছে। তাদের অভিযোগ, এত মানুষের ভোটাধিকার অনিশ্চিত রেখে নির্বাচনের দিন ঘোষণা করা উচিত নয়। এই বিষয়টির দ্রুত সমাধান করার দাবিতেই তারা রাস্তায় নেমেছেন। অনেকের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি ‘গো ব্যাক’ স্লোগানও শোনা যায়। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেষ্টা করেন। তবুও কমিশনের গাড়ি ভিআইপি রোড দিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষোভকারীরা কালো পতাকা দেখাতে থাকেন।
এই বিক্ষোভে যোগ দেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ ভিআইপি রোডের হলদিরামের কাছে তিনি পৌঁছে যান এবং সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, যারা সাহস করে এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন, তাদের ধন্যবাদ জানাই। যাদের নাম এখনও বিচারাধীন তালিকায় রয়েছে, তাদের ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে এই প্রতিবাদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই বিক্ষোভে প্রচুর মহিলা ও ছাত্রছাত্রীও অংশ নেন। জানা গিয়েছে, কয়েকজন ছাত্রকে পুলিশ গাড়িতে তুলতে গেলে উপস্থিত মহিলারা তাদের ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানান। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ব্যারিকেড তৈরি করে রাস্তা ঘিরে রাখার চেষ্টা করে। কৈখালি, হলদিরাম মোড়, ৪৫ নম্বর বাসস্ট্যান্ড এবং চিনার পার্ক এলাকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ জমায়েত হয়েছিলেন। অনেকেই একত্রিত ভাবে স্লোগান দেন যে, বিচারাধীন ভোটারদের বিষয়টি মেটানো না হলে ভোটের তারিখ ঘোষণা করা উচিত নয়।
রবিবার রাতেই কমিশনের ফুল বেঞ্চ কলকাতায় পৌঁছায়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে ছিলেন নির্বাচন কমিশনার সুখবির সিং সাধু ও বিবেক জোশিসহ মোট ১২ জন সদস্য। তাদের সঙ্গে আরও কয়েকজন উচ্চপদস্থ আধিকারিকও রাজ্যে এসেছেন।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করবেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। সকাল ১০টা থেকে রাজ্য ও জাতীয় স্তরের মোট আটটি স্বীকৃত রাজনৈতিক দলকে আলাদা আলাদা করে সময় দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি দলের জন্য প্রায় ১৫ মিনিট করে সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর দুপুরে নির্বাচন সংক্রান্ত প্রস্তুতি নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হবে। সেখানে প্রশাসন, পুলিশ এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। এই বৈঠকে আসন্ন নির্বাচনের নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।


