সাবধান! এই শারীরিক সমস্যাগুলো থাকলে নেবেন না কোভ্যাক্সিন, নির্দেশিকায় বলল ভারত বায়োটেক

সাইফুল্লা লস্কর : সাবধান! আপনার শরীরে এখন কোন স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সমস্যা বিদ্যমান নেই তো? কোন এলার্জি হাঁপানি বা ব্লাড ডিসঅর্ডার? আপনি কি গর্ভবতী মহিলা নাকি আপনার দুগ্ধপান করা সন্তান রয়েছে? এই রকম কিছু শারীরিক সমস্যা যদি আপনার শরীরে এখন বিদ্যমান থাকে তাহলে খবরদার কোভ্যাক্সিন নেবেন না। না এটা অন্য কেউ বলছে না, বলা হয়েছে করোনার এই ভ্যাকসিনটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হায়দ্রাবাদের ভারত বায়োটেক এর তরফ থেকে। তাদের তরফ থেকে প্রকাশিত ফ্যাক্টশিটে তাদের ভ্যাকসিন সম্পর্কে বিশদে বলা হয়েছে। এর সমস্যা থেকে ব্যাবহারের অসুবিধা এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সবকিছুই তুলে ধরা হয়েছে এখানে।

তাদের তরফ থেকে ভ্যাকসিন প্রদানকারীদের উদ্দেশ্যে জারি করা এক নির্দেশিকায় নিম্নোক্ত সমস্যাগুলো থাকলে তাদেরকে এই ভ্যাকসিন না দেওয়ার উপদেশ দেওয়া হয়েছে :

আপনি কি দীর্ঘ সময় ধরে কোনো রোগের কারণে ওষুধ সেবন করে চলেছেন? যদি হ্যা হয় তাহলে এই ভ্যাকসিন নেবেন না।

১. আপনার কি এলার্জি আছে?

২. আপনি কি জ্বরে ভুগছেন?

৩. আপনার কি কোনো ব্লাড ডিসঅর্ডার বা রক্ত সম্পর্কিত কোনো সমস্যা আছে?

৪. কোন শারীরিক সমস্যার কারণে আপনার শরীরের অনাক্রমতা তন্ত্র কি ক্ষতিগ্রস্ত?

৫. আপনি কি গর্ভবতী মহিলা?

৬. আপনার কি দুগ্ধ পান করা শিশু আছে?

৭. আপনি কি পূর্বে অন্য কোন করোনার ভ্যাকসিন নিয়েছেন?

১ থেকে ৭ পর্যন্ত উল্লেখ করা সমস্যাগুলির কোনো একটির সঙ্গে যদি আপনার সম্পর্ক থাকে তাহলে আপনাকে এই ভ্যাকসিন নিতে নিষেধ করছে ভারত বায়োটেক।

কোভ্যাক্সিন এর নির্মাতা ভারত বায়োটেক এর জারি করা ফ্যাক্টশিটে আরও জানানো হয়েছে এই ভ্যাকসিন নেওয়ার পর স্বাভাবিক যে সমস্ত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো লক্ষ্য করা যেতে পারে তার সম্পর্কে। এগুলো হল :

১. ভ্যাকসিন নেওয়ার পর শরীরের সেই স্থানটি ফুলে ওঠা, লাল হয়ে ওঠা বা জ্বালা করা।

২. সারা শরীরে একটা দূর্বলতার লক্ষণ উপলব্ধি করা।

৩. শরীরের কোথাও কোথাও চুলকানি জাতীয় সমস্যা পরিলক্ষিত হওয়া।

৪. হালকা জ্বর আসা।

৫. মাথা যন্ত্রণা করা।

৬. কয়েক বার বমি হওয়া ইত্যাদি।

উপরে উল্লেখিত সমস্যাগুলি একটা ভ্যাকসিন গ্রহীতার জন্য খুবই স্বাভাবিক পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ার অংশ বলে জানানো হয়েছে। এজন্য চিন্তিত হবার কোন কারণ নেই। তবে যে সমস্ত সমস্যা দেখা দিলে যথাশীঘ্রই ভ্যাকসিন প্রদানকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে সেগুলি হল :

১. শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া

২. গলার ভিতর সহ সারা শরীরে জ্বালা করা।

৩. সারা শরীরে ফুসকুড়ি বের হওয়া।

৪. সারা শরীর অনেকক্ষন ঝিমিয়ে পড়া বা অতিরিক্ত দুর্বলতা লক্ষ্য করা।

এই সমস্ত সমস্যা গুলি বেশ কিছু ক্ষেত্রে এখনো পর্যন্ত দেখা গিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এমন সমস্যা হয়নি। ভারত বায়োটেক এর তরফ থেকে জানানো হয়েছে এই ভ্যাকসিন গ্রহণের পর যে কোন ব্যক্তিকে ভ্যাকসিন প্রদানকারী সংস্থার তিন মাস পর্যন্ত নিজেদের নজরদারিতে রাখবে। ভাকসিনটির প্রথম ডোজ নেওয়ার চার সপ্তাহ অর্থাৎ প্রায় এক মাস পর তার দ্বিতীয় ডোজ প্রয়োগ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

কোভ্যাক্সিন প্রদান করা শুরুর প্রথম ৩ দিনে ৩ লাখ ৮০ হাজার মানুষ এই ভ্যাকসিন গ্রহণ করে। যাদের মধ্যে ৫৮০ জনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে।

 

করোনা মহামারীর প্রকোপ ধীরে ধীরে ম্রিয়মান হয়ে পড়েছে বিশ্বজুড়ে। এখন করোনা ভাইরাসের হাত থেকে পুরোপুরি মানবসভ্যতাকে নিষ্কৃতি দেওয়ার জন্য বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে টিকাকরণ। ভারত বর্ষ শুরু হয়েছে এই প্রক্রিয়া। ভারত সরকারের তরফ থেকে দেশে জরুরিকালীন ভাবে ব্যবহারের জন্য মঞ্জুরি দেয়া হয়েছে কোভ্যাক্সিন এবং অক্সফোর্ডের কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনকে। কবে সারা ভারতে বিভিন্ন মহল থেকে দেশের ভারত বায়োটেক এর তৈরি কোভ্যাক্সিন ব্যবহারের সমালোচনা করা হয়। কারণ এই ভ্যাকসিনটির এখনও পর্যন্ত পরীক্ষামূলক ফলাফল জনসমক্ষে আসেনি।

Latest articles

Related articles