আহমেদাবাদ নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে রবিবার রাতে তৈরি হল এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। টি–২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে আবারও বিশ্বসেরা হল ভারতীয় দল। ৯৬ রানে জয় পেয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো এই ট্রফি জিতে নতুন রেকর্ড গড়ল টিম ইন্ডিয়া। এর আগে টি–২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনও দল পরপর দুবার চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। ২০২৪ সালের পর ২০২৬ সালেও শিরোপা জিতে ভারত প্রমাণ করল তাদের আধিপত্য এখনও অটুট।
এই জয় ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ঠিক এই মাঠেই ২০২৩ সালের একদিনের বিশ্বকাপ ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারতে হয়েছিল ভারতকে। সেই রাতের হতাশা এখনও অনেকের মনে তাজা। তাই একই মাঠে বিশ্বজয়ের আনন্দ যেন সেই দুঃখের স্মৃতি মুছে দিল। গ্যালারিতে বসে ম্যাচ উপভোগ করছিলেন ভারতের দুই প্রাক্তন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি ও রোহিত শর্মা। দলের এই সাফল্যে তারাও বেশ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
ফাইনালে টস জিতে নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক
মিচেল স্যান্টনার ভারতকে প্রথমে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান। সুযোগ পেয়ে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে ভারত। নির্ধারিত ২০ ওভারে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ২৫৫ রান তোলে তারা, যা টি–২০ বিশ্বকাপের ফাইনালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্কোর।
ভারতের ইনিংসের শুরুটা যদিও খুব ধীর ছিল। প্রথম দুই ওভারে খুব বেশি রান ওঠেনি। কিন্তু এরপর ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তরুণ ব্যাটার অভিষেক শর্মা। মাত্র ১৮ বলে অর্ধশতরান করে তিনি দলের ভিত মজবুত করেন। তাঁর সঙ্গে দারুণ সঙ্গ দেন সঞ্জু স্যামসন ও ঈশান কিষাণ। স্যামসন টানা তিন ম্যাচে অর্ধশতরান করে নজর কাড়েন এবং এই বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ছক্কার রেকর্ডও গড়েন। অন্যদিকে কিষাণ দ্রুত ৫৪ রান করে দলের স্কোর আরও বড় করতে সাহায্য করেন। শেষ দিকে শিবম দুবে অল্প বলেই ঝড়ো ব্যাটিং করে রান বাড়িয়ে দেন।
২৫৬ রানের বড় লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। তৃতীয় ওভারেই ওপেনার ফিন অ্যালেন আউট হয়ে যান। এরপর দ্রুত আরও উইকেট পড়তে থাকে। ভারতের বোলিং আক্রমণের নেতৃত্ব দেন বুমরাহ ও আকসার পাটেল। বুমরাহ চারটি এবং অক্ষর তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে কিউই ব্যাটিং লাইনআপকে ভেঙে দেন। শেষ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ড ১৫৯ রানেই অলআউট হয়ে যায়।
ম্যাচ জয়ের পর স্টেডিয়ামে শুরু হয় উৎসবের আবহ। গ্যালারিতে উপস্থিত প্রায় এক লক্ষেরও বেশি দর্শক ভারতের জয়ে উল্লাসে ফেটে পড়েন। চারদিকে বাজতে থাকে দেশাত্মবোধক গান। আতসবাজির আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে আহমেদাবাদ রাতের আকাশ। এই জয়ের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে গোটা দেশে। অনেক শহরে মানুষ রাস্তায় নেমে উদযাপন শুরু করেন। ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে এই রাত হয়ে রইল গর্ব আর আনন্দের এক স্মরণীয় মুহূর্ত।


