
কথায় বলে, একই মিথ্যে বারবার জোর দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে উপস্থাপন করলে মানুষ তা সত্যি বলে মেনে নিতে বাধ্য হয়। হিটলার – গোয়েবলস একশো বছর আগে প্রমাণ করে দিয়েছেন।এগারো বছর আগে নরেন্দ্র মোদি – অমিত শাহ ও। বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্বৈরাচারী সরকাররা বারবার শাসন চালানোর জন্য এই রাস্তাই নিয়ে এসেছে। মানুষকে নিজেদের দাবি থেকে দূরে সরিয়ে রেখে কিছু মিথ্যে খবর ও বিভিন্ন প্রকার মনোরঞ্জনন দিয়ে ভুলিয়ে রেখেছে তারা। যাতে সাধারণ মানুষ মূল দাবি থেকে দূরে সরে গিয়ে, সরকারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন করতে না পারে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিদেশে গিয়ে নরেন্দ্র মোদি বারবার বলেছেন ২০১৪ র আগে ভারত ছিল অন্ধকারে। তাতে দেশের মুখ পুড়লেও তিনি প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন তিনিই বিকাশ পুরুষ। তাঁর পূর্বসূরীরা, এমনকি তাঁর দলের বাজপেয়ীও ভারতের উন্নয়নে ব্যর্থ।

পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রীমতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও একই রাস্তার পথিক। লন্ডনে গিয়ে তিনিও দাবি করলেন তাঁর আগে পশ্চিমবঙ্গ ছিল আঁধারে।
আবারো মিথ্যের আশ্রয় নিলেনা তিনি। এবার আর কোন রাজনৈতিক দলীয়সভা বা সরকারি মঞ্চ থেকে নয়, সাধারণ মানুষকে মিথ্যে বললেন বিদেশের মাটিতে। অত্যন্ত আত্মবিশ্বাস এবং দৃঢ়তার সঙ্গে জানালেন, ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারে আসার সময় পশ্চিমবঙ্গের দরিদ্র সীমার হার ছিল ৫৭ শতাংশ বা তারও বেশি।
এখন মনে প্রশ্ন ওঠে সত্যিটা আসলে কি?
১৯৭৩-৭৪ সালে পশ্চিমবঙ্গের গ্রামের ৭৩.১৬% মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে থাকতেন। ভারতের তুলনায় অনেক বেশী। ১৯৯৩ সালে এই এই সংখ্যা নেমে আসে ৪০.৮০%। ২০০৪ এ ২৮.৬০%। ২০১১ সালের হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে দারিদ্র্যসীমার হার ২০%।
সংবাদ মাধ্যমের কাজ হল সত্য খবর পরিবেশন । গদি মিডিয়ার গদ্দালিকায় আমরা পা দেব না। এনবিটিভির পাঠক দর্শকদের কাছে আমরা দায়বদ্ধ সত্য জানানোর। তাই সরকারি রক্তচক্ষু আসবে জেনেও আমরা জানতে চাই – মুখ্যমন্ত্রী সত্য বলেননি।